খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

আবুল হাসানাতের নির্দেশে পিতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা : ট্রাইব্যুনালে ছেলে

খবর প্রতিবেদন |
০২:১৭ এ.এম | ২০ অগাস্ট ২০২৬


কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর নির্দেশে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পিতা কবির হোসেন রনি ওরফে কবির মোল্লাকে পুলিশ ‘ক্রসফায়ারের’ হত্যা করেছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ছেলে আশিকুর রহমান আছিফ (২২)।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ১৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে তিনি এই জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে আছিফ বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের গ্রামের বাড়ি আগৈলঝাড়া থানার নগরবাড়ি গ্রামে বিএনপি’র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আমার বাবা ও এই মামলার অপর ভিকটিম টিপু হাওলাদার কাকা এলাকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। তাদের এই জনপ্রিয়তার কারণে বরিশাল-১ আসনের তৎকালীন এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ তাদের উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন এবং বিএনপি ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখাতেন।’
আছিফ আদালতকে জানান, হুমকির মুখে তার বাবা এলাকা ছেড়ে সপরিবারে ঢাকার আশুলিয়ার কুড়গাঁও এলাকায় চলে আসেন। সেখানে তার বাবা বাসের ড্রাইভার এবং মা গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারি আমার বাবাকে কুড়গাঁওয়ের বাসা থেকে ১২-১৩ জন লোক এসে ডিবি পরিচয় দিয়ে নিয়ে যায়। আমার মা জিজ্ঞাসা করলে তারা জানান যে, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর নির্দেশে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে ২১ ফেব্র“য়ারি সকালে টেলিভিশনের খবরের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, বাবা ও টিপু কাকা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।’
আছিফ বলেন, ‘আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তৎকালীন এসপি এহসান উল্লাহকে দিয়ে উজিরপুর থানার দুইজন ‘ভাড়াটিয়া’ পুলিশ সদস্য এএসআই মাহাবুল ও এএসআই জসিমকে দিয়ে আমার বাবা ও টিপু কাকাকে খুন করিয়েছেন। দাফনের সময়ও তার লোকজন আমাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছিল।’
জবানবন্দি দেওয়ার সময় ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া জব্দ তালিকার বইয়ের ১১ নম্বর পাতায় থাকা পিতার রক্তাক্ত লাশের ছবি ট্রাইব্যুনালকে দেখান আছিফ।
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে বিরোধী দলকে নির্মূল করতে সারা বাংলাদেশে এভাবে গুম ও খুন করা হয়েছে। বরিশাল জেলায় আরও ৫-৬ জনকে একই ভাবে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছে।’
এই মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থাকা উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই মোঃ মাহাবুল ইসলাম ও এএসআই জসিম উদ্দিনকে বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
মামলার প্রধান দুই আসামি সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং সাবেক এসপি এ কে এম এহসান উল্লাহ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
হত্যাকান্ডের শিকার দুইজন হলেন-আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং উপজেলা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, টিপু ও কবির ছিলেন সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্ব›দ্বী। তাদের সরিয়ে দিতে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৎকালীন এসপিকে নির্দেশ দেন। ২০১৫ সালের ২০ ফেব্র“য়ারি তাদের গ্রেফতারের পর রাতে আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের পাশে ‘ক্রসফায়ারের নাটক’ সাজিয়ে হত্যা করা হয়।
এর আগে গত ২০ মে চার আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ