খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরার গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের মামলা

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক দু’কর্মকর্তার ৩০ ও অপর দু’কর্মকর্তার ১৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:৩২ এ.এম | ২০ অগাস্ট ২০২৬


সাতক্ষীরার চন্দনপুর-কলারোয়ার গ্রামীণ ব্যাংক শাখার ১৯৩ গ্রাহকের ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদকের দায়ের করা পৃথক দু’টি মামলায় ব্যাংকটির সাবেক দু’কর্মকর্তার ৩০ বছর এবং অপর দু’কর্মকর্তার ১৫ বছর কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে খুলনার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোঃ আদীব আলী (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এ রায় ঘোষণা করেছেন।
আদালতের পিপি এড. মোঃ মোফাককার হোসেন মনি জানান, ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে ২০১০ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত আসামি রুনা লায়লা, মোঃ ইনছার আলী ও রনেশ বিশ^াস গ্রামীণ ব্যাংক সাতক্ষীরার চন্দনপুর-কলারোয়ার শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ৬৭ জন গ্রাহকের নামে ৬ লাখ ২১ হাজার ৮৯৩ টাকা লোন বিতরণ দেখিয়ে ৩ লাখ ৩ হাজার ১৩২ টাকা জমা দিয়ে  ৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আসামি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক রুনা লায়লা, একই ব্যাংকের ওই শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ ইনছার আলী ও একই ব্যাংকের সাবেক দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাসকে ৪০৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। এ মামলায় আসামিদের ১০৯ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। অপর দিকে মমতাজ পারভীন, মোঃ ইনছার আলী ও রনেশ বিশ^াস গ্রামীণ ব্যাংক সাতক্ষীরার চন্দনপুর-কলারোয়ার শাখায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ১২৬ জন গ্রাহকের নামে ১০ লাখ ৬২ হাজার ২১০ টাকা লোন বিতরণ দেখিয়ে ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮১ টাকা জমা দিয়ে  ৫ লাখ ৬১ হাজার ৬২৯ টাকা আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আসামি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক কেন্দ্র ব্যবস্থাপক মমতাজ পারভীন, একই ব্যাংকের ওই শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ ইনছার আলী ও একই ব্যাংকের সাবেক দ্বিতীয় কর্মকর্তা রণেশ বিশ্বাসকে ৪০৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। এ মামলায় আসামিদের ১০৯ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। রায ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন না।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ ইয়াসিন আলী নথীর বরাত দিয়ে জানান, দুর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক এস এম শামীম ইকবাল বাদী হয়ে কলারোয়া থানায় মামলা দু’টি দায়ের করেন যার নং-২০, তারিখ- ২৭/২/২০১৪ এবং নং-২৯, তারিখ- ২৯/৫/২০১৪। দায়ের করা ৪/২২ নম্বরের মামলায় আদালত রুনা লায়লা, রমেশ বিশ্বাস ও ইনছার আলীকে দু’টি পৃথক ধারায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। অভিযুক্তরা এখানে ৬৭ জন গ্রাহকের ৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। অপরদিকে  ৮/২২ নম্বর মামলায় মমতাজ পারভীন, ইনছার আলী ও রমেশ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১২৬ জন গ্রাহকের ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। আদালত পৃথক দু’টি মামলায় ১৯৩ জন গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা অর্থের সমপরিমাণ টাকা আসামিদের জরিমানা করেছেন। তবে জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরো দুই বছর করে মোট ৪ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ