খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন সংসদ সদস্যরা

খবর প্রতিবেদন |
০২:২৩ পি.এম | ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল  ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সবশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোট হয়েছিল।

নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের মধ্যে ভোটের লড়াই হচ্ছে। তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সদ্য পদত্যাগী মহাসচিব মির্জা ফখরুলই যে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন—সেটা এক রকম নিশ্চিত। এরপরও একাধিক প্রার্থী থাকায় সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ফলে এই আসনটি শূন্য রয়েছে। অসুস্থতার কারণে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস দেশের বাইরে থাকায় তিনি রাষ্ট্রপতি পদে ভোট দিতে পারবেন না।

নির্বাচনে বিজয়ী হতে প্রয়োজন হবে ১৭৫ ভোট। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিজয় প্রায় নিশ্চিত। তিনি নির্বাচিত হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হবেন।

সংসদ সদস্য হওয়ায় রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে তার সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রী পদ থেকেও তার পদত্যাগ হবে।

অন্যদিকে সংসদ সদস্য না হওয়ায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ ভোট দিতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ কক্ষে চারটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্যে ভোট দেবেন। ব্যালটে ভোটারের নাম এবং তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা উল্লেখ থাকবে।

ভোটগ্রহণের আগে সংসদ কক্ষে স্পিকারের আসনের সামনে নির্ধারিত স্থানে বসেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনাররা, নির্বাচন কমিশন সচিব ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে ভোট দিচ্ছেন। নির্বাচনে সহায়তার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে ২০ জন কর্মকর্তার তালিকাও সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়।

১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে ভোটাভুটি হচ্ছে। এর আগে প্রায় সব নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে ভোটে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রায় ২৫০ জন সংসদ সদস্য ভোটার রয়েছেন। দলীয় সংসদ সদস্য না হওয়ায় আট স্বতন্ত্র এমপি দুই প্রার্থীর যেকোনো একজনকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরই মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে স্বতন্ত্র এমপিদের কাছে ভোট চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদীয় দলের বৈঠক বেলা ১২টায় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা ৯০ জন। এর মধ্যে নৈতিকস্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কৃত হওয়ায় তাকে আজকের বৈঠকে ডাকা হয়নি। এ ছাড়া তিনজন বিরোধীদলীয় এমপি এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদেশে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি। গত ১৩ আগস্ট বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত অলি আহমদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ