খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২০ অগাস্ট ২০২৬ | ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩৮ পি.এম | ২০ অগাস্ট ২০২৬

 

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়। গণনা প্রক্রিয়া শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।

এ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট, আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

সিইসি ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট ৩৪৩টি, অব্যবহৃত ব্যালট ৬টি। বিভিন্ন ত্রুটির কারণে আইনের মধ্যে থেকে ৪টি ব্যালট রিপ্লেস করা হয়েছে। নির্বাচনে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। এসময় সিইসি হিসেবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ঘোষণা করেন।

এরপর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিরোধী দলীয় নেতাসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা নতুন রাষ্ট্রপতিকে একেএকে শুভেচ্ছা জানান।

এর আগে দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হয়। বক্তব্যের শুরুতেই মাইক বিভ্রাটে পড়েন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে তিনি দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন পরিচালনার নিয়মাবলী সংসদ সদস্যদের সামনে তুলে ধরেন।

এরপর নির্বাচনি সহায়ক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের আসনে ব্যালট পেপার নিয়ে যান। সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেন।
সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। সরকারদলীয় রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট প্রদান করেন।

জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কথা ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস ভোটে অংশ নিতে পারেননি। আর সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না কর্নেল (অব.) অলি আহমদের।

ভোটগ্রহণের জন্য তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়। সংসদ সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার দেওয়া হয়, যাতে ভোটগ্রহণে ভিড় না হয়। ব্যালট পেপারে দুই প্রার্থীর নাম ছিল। ভোট দিয়ে নির্ধারিত স্থানে স্বাক্ষর করে ব্যালট বাক্সে জমা দেন সংসদ সদস্যরা।

ভোটগ্রহণ পরিচালনা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় দায়িত্ব পালন করেন। ভোটগ্রহণের শুরুতে প্রথম ২০ মিনিট সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।

বিকাল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স খোলা হয়। এরপর প্রকাশ্যে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি পদে সর্বশেষ ভোট হয়েছিল। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ফলে ৩৫ বছর পর আবার সংসদ সদস্যদের ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।

সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান।

নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ