খুলনা | শুক্রবার | ২১ অগাস্ট ২০২৬ | ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

দুই বছরে ৪০ কোটি টাকা লোকসান, এবার বিপিএল করতে চায় না বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৬:৫৮ পি.এম | ২০ অগাস্ট ২০২৬



বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে গত কয়েক বছরে যে অনিশ্চয়তা, বকেয়া ও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি আর টেনে নিতে চান না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। শেষ মুহূর্তে দল জোগাড় করে কিংবা ঘাটতি রেখে এবার বিপিএল আয়োজনের পথেও হাঁটছে না বিসিবি।

বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিসিবির পরিকল্পনা কী, তা নিয়ে আজ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তামিম। তাঁর ভাষায়, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ঘরোয়া ক্রিকেটের পুরো কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এ বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না। আমরা একটি নতুন ফর্মুলা নিয়ে কাজ করছি। যখন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে, তখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেব যে আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্যালেন্ডারটি আমরা কীভাবে সাজাচ্ছি। এটি বেশ ভিন্নধর্মী ও রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।’

শুধু বিপিএল আয়োজন করাই এখন বিসিবির লক্ষ্য নয়; টুর্নামেন্টটি কীভাবে আরও টেকসই করা যায়, সেটিই অগ্রাধিকার। তামিম বলেন, ‘আমি আগেই বেশ কয়েকবার ইঙ্গিত দিয়েছিলাম যে আমি বিপিএল এভাবে পরিচালনা করব না। এখানে মূলত দুই-তিনটি বড় ইস্যু রয়েছে। প্রথমত, আমাদের মূল এজেন্ডা ছিল যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সম্পন্ন করা।’

বিপিএল এর আগেও দুবার থমকে গেছে। ফিক্সিং কেলেঙ্কারির কারণে ২০১৪ সালে টুর্নামেন্টটি হয়নি। এরপর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২১ সালেও মাঠে গড়ায়নি বিপিএল। এবার অবশ্য পরিস্থিতি আলাদা। টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনা, নিয়ম মানা ও আর্থিক দায়বদ্ধতাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষ করে কয়েকটি দলের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তামিম। তিনি বলেন, ‘বিপিএল কেন সংকটে পড়ত? রংপুর ও রাজশাহী ছাড়া বাকি দলগুলোর অবস্থা কী? কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন ও নীতিমালা ভাঙা হয়েছে। যদিও রাজশাহী পেমেন্ট ক্লিয়ার করেছে, তবুও তাদের ক্ষেত্রেও যে শতভাগ কমপ্লায়েন্স বা নিয়মের কড়াকড়ি রক্ষা করা হয়েছে, তা নয়।’

বিপিএলে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি মাঝপথে সরে গেলে বা শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বিসিবির ওপরই পড়ে। গত দুই বছরে এমন নানা কারণে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির কথাও জানিয়েছেন তামিম।

তিনি বলেন, ‘সমস্যা হলো, যদি কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায় বা কমপ্লায়েন্স পূরণ না করে, তবে বিসিবিকে সেই দলের দায়িত্ব নিতে হয়। গত দুই বছরে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে তো বিসিবির লাভ করার কথা, লোকসান নয়। তাই এই সমস্যাগুলোর সমাধান না করা পর্যন্ত, লোকসান গুনে টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়া আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

তবে বিপিএল থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই বিসিবির। বরং আগামীবার যাতে আরও গোছানো ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায়, সে জন্য সময় নিতে চান তামিম। তাঁর কথায়, তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি।

তামিম বলেন, ‘এটি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের ইচ্ছা এক হাজার শতাংশ রয়েছে। তবে আমি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি কাজটি সঠিকভাবে করতে চাই, সেজন্য যদি ৬ বা ১২ মাস সময়ও লাগে, আমি তা নেব। আমরা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি। যারা নিয়ম লঙ্ঘন করেছে বা খেলাপি হয়েছে, সেই বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে। বকেয়া পেমেন্ট বা ব্যাংক গ্যারান্টিসংক্রান্ত সমস্যাগুলো ধাপে ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দিইনি। আমার মূল অগ্রাধিকার হলো পুরো সিস্টেমটিকে ঠিক করা, যাতে বিসিবি লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।’

আগের মতো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বিপিএল আয়োজন করতে চান না বিসিবি সভাপতি। আগামীবার ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করার কাজও বেশ আগেই শেষ করার পরিকল্পনা তাঁর।

তামিম বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে। আগে যা হতো—একেবারে শেষ মুহূর্তে সবকিছু করা হতো। আমরা পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চূড়ান্ত করতে চাই, যাতে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে বা সরে দাঁড়ালে আমাদের হাতে বিকল্প খোঁজার মতো যথেষ্ট সময় থাকে। আমরা একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আগামী বছর এটি আয়োজন করার চেষ্টা করব। আমি চাইলে কালকেই পাঁচটি দল দাঁড় করিয়ে দিতে পারি, কিন্তু আমি তা করব না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিযোগিতামূলক ফেয়ার ক্রিকেট নিশ্চিত করা এবং বিসিবির সম্মান ও মর্যাদা বজায় রাখা। এর জন্য যদি আমাকে কোনো সমালোচনাও শুনতে হয়, তবুও আমি রাজি।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ