খুলনা | শনিবার | ২২ অগাস্ট ২০২৬ | ৬ ভাদ্র ১৪৩৩

ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তেরখাদা ফারুক গ্রেফতার

পরিত্যক্ত স্থানে মিলল নারীর লাশ, শিশুকে ভাসিয়ে দেওয়া হয় আড়িয়াল খাঁ নদে

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৬ এ.এম | ২২ অগাস্ট ২০২৬


মাদারীপুরের শিবচরে সম্পা খাতুন (২৮) নামের এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে ফারুক মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, হত্যার পর ওই নারীর এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে শিশুটির মরদেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার দুপুরে শিবচর থানায় আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদের।
এর আগে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে শিবচরের মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি খান বাড়ি স্ট্যান্ড এলাকার একটি জঙ্গল থেকে সম্পা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
পুলিশ জানায়, একটি মামলায় সম্পার স্বামী কারাগারে থাকাকালে ফারুকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে ফারুক তাঁকে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন ফারুক।
পুলিশের দাবি, এ সময় সম্পার এক বছর বয়সী ছেলে আবিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তাঁর মরদেহ আড়িয়াল খাঁ নদে ফেলে দেন ফারুক। এ ঘটনায় সম্পার বাবা ছামরুল ইসলাম গত ২০ আগস্ট শিবচর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ও মাদারীপুর র‌্যাব-৮ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে রাজৈর থেকে ফারুককে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত ফারুক মোল্লা খুলনার তেরখাদা উপজেলার জয়সোমা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে শিবচরের বাখরেরকান্দি এলাকায় ভাড়া নেওয়া জমিতে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ আরো জানায়, ফারুকের বাসা থেকে নিহত সম্পার স্বর্ণের নাকফুল, রুপার চেইন, একজোড়া জুতা ও পোড়ানো অবস্থায় একটি ওড়না উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক মাস আগে গাড়ি চুরির অভিযোগেও তাঁকে শিবচর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদের বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শিশুটির মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ