খুলনা | রবিবার | ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

নগরীর হরিণটানা এলাকার আশিবিঘায় জোড়া খুন

নাজমুল হত্যার প্রতিশোধ নিতেই মনজুরুলকে হত্যা : র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৪:০৯ পি.এম | ২২ অগাস্ট ২০২৬


নগরীর লবণচরা থানার হরিণটানা এলাকার আশিবিঘা বালুর মাঠে আধিপত্য বিস্তার, দুইপক্ষের বিরোধ ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরপর দু’টি হত্যাকান্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। একটি হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নিতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অপর হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয় বলে দাবি সংস্থাটির।
নগরীর টুটপাড়া এলাকার সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত আলামিন হাসান সাইফিকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। শনিবার সকালে র‌্যাবের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ।
এর আগে শুক্রবার গোপালগঞ্জের মাঝিগাতি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে আলামিন হাসান সাইফি ও তাঁর সহযোগী রাফিকুল ইসলাম রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সাগর আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে র‌্যাব জানায়।
র‌্যাবের অধিনায়ক নিস্তার আহমেদ বলেন, টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে খুলনার দু’টি সন্ত্রাসী গ্র“পের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। একটি গ্র“পের নেতৃত্বে রয়েছে গ্রেনেড বাবুর ‘বি কোম্পানি’ এবং অপরটি রোহান-পলাশ গ্র“প। টুটপাড়ার সাইফি গ্রেনেড বাবুর সহযোগী হিসেবে কাজ করেন। অন্যদিকে নিহত রফিক রোহান-পলাশ গ্র“পের হয়ে ওই এলাকায় মাদক কারবার করতেন বলে র‌্যাবের কাছে তথ্য রয়েছে।
র‌্যাব জানায়, ১৯ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় একটি সেলুনে চুল কাটার পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন নাজমুল। এ সময় রফিকের গ্র“পের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাঁকে তুলে নিয়ে যান। পরে প্রতিপক্ষের এক সদস্যকে ভিডিও কল দিয়ে নাজমুলকে দেখানো হয়। ভিডিও কলের সময় তাঁকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় বলে র‌্যাবের ভাষ্য।
নাজমুলকে হত্যার দৃশ্য ভিডিও কলে দেখে প্রতিপক্ষের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে প্রতিশোধ নিতে সাইফিসহ তাঁর দলের ১৫ থেকে ১৬ জন সদস্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় যান। সেখানে প্রতিপক্ষের সদস্য মনজুরুলকে পেয়ে তাঁর বাবার সামনে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, সন্ধ্যায় মনজুরুলকে হত্যা করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুলকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা আশিবিঘা এলাকায় ফেলে রেখে যায়। দুই হত্যাকান্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সাইফিকে গ্রেফতারের পর তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে শটগান, শটগানের গুলি, পিস্তল ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।
নিস্তার আহমেদ আরও বলেন, গ্রেফতার সাইফি গ্রেনেড বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাউয়া মিরাজের নির্দেশনায় এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাসহ চারটি মামলা রয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে সাইফিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, পৃথক দু’টি হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল একই। এ ঘটনায় পৃথক দু’টি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ