খুলনা | রবিবার | ২৩ অগাস্ট ২০২৬ | ৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সুন্দরবনের ব্লু কার্বন মজুতের তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩৭ এ.এম | ২৩ অগাস্ট ২০২৬

 

সুন্দরবনের কার্বন মজুতের নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি এবং বনটির বাস্তুসংস্থানগত গুরুত্বকে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বন বিভাগ। ‘ব্লু কার্বন ফর দ্য ফিউচার’ প্রকল্পের আওতায় মাঠ পর্যায়ে সমীক্ষার মাধ্যমে এই তথ্য ভান্ডার তৈরি হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনে বিষ দিয়ে মারা মাছ শনাক্তকরণের জন্য কিট উদ্ভাবন করা হবে।
শনিবার সকালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ‘ব্লু কার্বন ফর দ্য ফিউচার (বিসিএফ): এনহ্যান্সিং দ্য রোল অব সুন্দরবন ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস এ্যান্ড কনজারভেশন অব কার্বন স্টকস’ শীর্ষক কর্মশালায় এ সব তথ্য জানানো হয়। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ-এর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। 
কর্মশালায় গবেষকরা জানান, সুন্দরবনের কার্বন ধারণক্ষমতা নিখুঁতভাবে নিরূপণ করতে আধুনিক ও উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে। বনের কম লবণাক্ত, মধ্যম লবণাক্ত ও উচ্চ লবণাক্ত অঞ্চল থেকে মাটি এবং উদ্ভিদের জীবভরের (বায়োমাস) নমুনা সংগ্রহ করা হবে। বিশেষ করে মাটির পাঁচ মিটার গভীর স্তর থেকে নিখুঁত কোর-স্যাম্পল নেওয়া হবে। এছাড়া বনের ঘনত্বের পরিবর্তন এবং গাছের উচ্চতা পরিমাপের জন্য বিগত বছরগুলোর স্যাটেলাইট ইমেজারি ও জিআইএস প্রযুক্তির ডেটা বিশ্লেষণ করা হবে।
এরপর সংগৃহীত ডেটাগুলোকে ইনভেস্ট মডেল ও মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রসেস করে আগামী এক শতাব্দীতে সুন্দরবনের কার্বন মজুতের সম্ভাব্য পরিবর্তন বা ক্ষয়ের পূর্বাভাস তৈরি করা হবে। চূড়ান্ত ডেটা হাতে পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক কার্বন ট্রেডিং বাজার এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের গাইডলাইন অনুযায়ী সুন্দরবনের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হবে।
কর্মশালায় গবেষকরা জানান, সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বর্তমানে প্রায় ৯১.১৯ টেরোগ্রাম ব্লু-কার্বন মজুত রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে বনের কার্বন স্টক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। 
কর্মশালায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত বৈজ্ঞানিক ডেটা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক কার্বন বাজারে প্রবেশের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেবে, যা একই সাথে উপকূলীয় মানুষের জীবিকা এবং সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তৃতা করেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ গোলাম হোসেন ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডিয়া সানু।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদবলেন, জরিপটি সুন্দরবনের কার্বন মজুতের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে। এই ফলাফলকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশে ন্যায্য জলবায়ু ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ আরও শক্তিশালী করবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ