খুলনা | সোমবার | ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ডুমুরিয়ায় দু’টি খাল খননের ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ফেরত : উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী

মাহাবুবুর রহমান, ডুমুরিয়া |
০১:২৬ এ.এম | ২৪ অগাস্ট ২০২৬


‎ডুমুরিয়ায় বিলডাকাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে দু’টি খাল খননের জন্য বড় অংকের অর্থ ব্যয়ে দু’টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। এটি অনিয়ম ও অপরিকল্পিত প্রকল্প পরিলক্ষিত হওয়ায় শুরুতেই সমালোচনার ঝড় ওঠে। যে কারণে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। এমনকি ৫ থেকে ৭ ফুট গভীরতা সম্পন্ন খাল থেকে ভেক্যু মেশিন দিয়ে পেড়িমাটি তুলে খালের পাড়েই রাখা হয়। 
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন ও বাস্তবায়নকারী দপ্তরের উদাসীনতায় যেনতেনভাবে খাল খনন করে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা। 
এদিকে খাতা কলমে সদ্য সমাপ্ত সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন প্রকল্পের ভদ্রা নদীর নষ্ট হয়ে যাওয়া স্লুইস গেটে সামনে মাটির হদিস পাওযা যায়নি। নামমাত্র একটি ভেড়িবাঁধ দেয়া হয়েছে। যার দক্ষিণ পাশেও পানি। এর মাঝখানের ভেড়িতে  রোপণকৃত চারা এখন পানির নীচে।
‎উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, বিলডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য দু’টি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। যার মধ্যে সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিযা বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃ খনন প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ১ কোটি ২৮  লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। খাতা কলমে ব্যয় দেখানো হয়েছে  ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। এছাড়া বিলডাকাতিয়ায় খনন করা খালের পাড়ে দেয়া মাটির অধিকাংশ স্থানে অস্তিস্ত নেই। 
‎অপরদিকে ডুমুরিয়া ফুলতলা এলাকার সবচেযে বড় সমস্যা বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা। বিলডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা নিরসনে নেয়া কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন  প্রকল্পে ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকা। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে  ফেরত দিতে হয়েছে ৯৮ লাখ  ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা। 
বিলডাকাতিয়া এলাকায় কৃষ্ণপদ মন্ডল বলেন, এতগুলো টাকা ডুমুরিয়া উপজেলা থেকে ফেরত যাওয়ায় আমরা উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হলাম। অপর দিকে তেলিখালী এলাকার আঃ সামাদ বলেন খাল খননের পর বাঁধের দুই পাশে চারা রোপণ করা হয়েছে তা এখন পানিমগ্ন। এসব সরকারি অর্থ অপচয় মাত্র।
‎ডুমুরিয়া উপজেলায় সদ্য যোগদানকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিল ডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা দক্ষিণ পার্শ্ব আশি ফুট পর্যন্ত এবং সাহস ইউনিয়নের ডোলভাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানে হয়ে তেলিখালি গেট অভিমুখে ভদ্রা নদী পর্যন্ত দু’টি খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ৩ কোটি ৯ লাখ ৬ হাজার ৭৬৯ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। খনন কাজের পাশাপাশি প্রায় ৫ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ওষুধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।
‎ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকারের নিকট মুঠোফোনে জানাতে চাইলে অর্থ ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের প্রশাসনিক দায়িত্ব। 
‎খুলনা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা  মোঃ আব্দুল করিম বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার দু’টি খাল খননের ক্ষেত্রে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে সেটি সরেজমিনে দেখে সে অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়। সে অনুযায়ী ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে জমা দিয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ