খুলনা | সোমবার | ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

১৮০ দিনে ১৫৭ অপতথ্যের শিকার প্রধানমন্ত্রী!

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৪ এ.এম | ২৪ অগাস্ট ২০২৬


রাষ্ট্রক্ষমুায় আসার পর গত ছয় মাসে সরকারকে নিয়ে অনলাইন মাধ্যমে নানা ধরনের অপতথ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই নেতিবাচক। এই ধরনের অপতথ্য ছড়ানো চক্র খোদ প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও নানা ধরনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন মাধ্যমে।
অনলাইন ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের তথ্য বলছে, সরকারের প্রথম ছয় মাস সময়ে অপুথ্যের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাকে ঘিরে মোট ১৫৭টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৭৮ শতাংশই ছিল নেতিবাচক। এসব অপুথ্যের ধরণ বিশ্লেষণেও দেখা যায়, এসব কনটেন্ট তৈরিতে একাধিক প্রচলিত ও নতুন কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানারের তথ্য বলছে, ১২ ফেব্র“য়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর গত ১৮ ফেব্র“য়ারি থেকে গত ১৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম ১৮০ দিনে সরকারকে জড়িয়ে অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ সময়ে সরকার ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিষয়কে কেন্দ্র করে মোট ৪৬৪টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯১ শতাংশ অপতথ্যই ছিল সরকারের বিপক্ষে বা নেতিবাচক বার্তা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রচারিত। এসব অপুথ্যের সিংহভাগেই সরকার, এর নেতৃত্ব ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তারেক রহমানকে নিয়ে অপুথ্যের ৭৮ শতাংশই নেতিবাচক : পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তারেক রহমানকে জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৪টি অপতথ্য এসেছে সার্কাজম পেজের পোস্টের মাধ্যমে। এরপরেই রয়েছে তার নামে ছড়ানো ভুয়া বক্তব্য (৩০টি) এবং গণমাধ্যমকে নকল করে প্রচারিত ভুয়া ফটোকার্ড (২২টি)। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বা সম্পাদিত ১৯টি কনটেন্টও শনাক্ত হয়েছে। 
এ ছাড়া পুরোনো ছবি-ভিডিওকে নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে ৭টি ক্ষেত্রে এবং সম্পাদিত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে ৫টি অপতথ্যে। অর্থাৎ, প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে রাজনৈতিক অপতথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু সম্পূর্ণ বানোয়াট তথ্য নয়; বরং ভুয়া বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের আদলে তৈরি ফটোকার্ড, পুরোনো কনটেন্টের পুনর্ব্যবহার, ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট এবং এআই-নির্ভর কনটেন্টসহ এমন বিভিন্ন কৌশলের সমন্বিত ব্যবহারও দেখা গেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমুায় আসে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতীকালীন সরকার। এই সরকারের অধীনে চলতি বছরের ১২ ফেব্র“য়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরে বাংলাদেশ। ১৭ ফেব্র“য়ারি শপথ নেয় নতুন সরকার।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে গুজব ও অপতথ্যের প্রচার যেন নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘিরে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ে। বিএনপি সরকারের বেলায় শুরু থেকেই একই প্রবণতা লক্ষ্য করেছে রিউমর স্ক্যানার। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে পরবর্তী মাসগুলোতে বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহে অপতথ্য হয়ে উঠেছিল যেন নীরব সঙ্গী। এআই-নির্ভর কনটেন্ট, সার্কাজম পেজের বিস্তারসহ অপতথ্য ছড়ানোর নানা কৌশল এর মাত্রা আরও বাড়িয়েছে। পরিসংখ্যানেও এর প্রতিফলন দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারে থাকা সংশ্লিষ্টদের ঘিরে ছড়ানো অপতথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে সার্কাজম পেজ হিসেবে পরিচিত কিছু পেজ থেকে ভুয়া মন্তব্য বা বক্তব্য তৈরি করা হয়। পরে এসব কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয় অসংখ্য ফেসবুক গ্র“প ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে। কখনো কখনো যাচাই না করেই এসব বক্তব্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা গণমাধ্যমের আলোচনাতেও উঠে আসে।
একই সময়ে এআই-নির্মিত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ইস্যুভিত্তিক বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও দেখা গেছে। এর সঙ্গে পুরোনো ভিডিও, ভুয়া ফটোকার্ড এবং প্রমাণহীন তথ্য যুক্ত হয়ে অনেক ক্ষেত্রে অপতথ্য প্রচারের সমন্বিত ক্যাম্পেইনের রূপ নিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ছয় মাসে এমন অন্তত ১০টি ইস্যুতে অপতথ্যের ক্যাম্পেইন শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এর মধ্যে কয়েকটি ক্যাম্পেইনের পেছনে থাকা মূল হোতাদেরও শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে রিউমর স্ক্যানার।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ