খুলনা | মঙ্গলবার | ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

১১ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণ

ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত, সেই মাদরাসাশিক্ষকই নবজাতকের জন্মদাতা

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩১ এ.এম | ২৫ অগাস্ট ২০২৬

 

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে মামলার আসামি মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরই শনাক্ত হয়েছেন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আদালতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল।

পিপি নুরুল কবীর বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা হিসেবে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলাটির বিচারকার্য শেষ করা সম্ভব হবে বলেও আশা করেন তিনি।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় চার বছর আগে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর একটি মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটির বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সে নানার বাড়িতে থেকে ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

একপর্যায়ে শিশুটি অসুস্থ বোধ করার পাশাপাশি তার শরীরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ এপ্রিল তার মা মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা করান। সেখানে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এরপর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মাদরাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরদিন আদালত তাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর আদালত তার ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।

নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে ১২ মে আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে গত ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।

এরপর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ৯ জুলাই আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিলেটের একটি সেফ হোমে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। পরে ওই নমুনার সঙ্গে মামলার আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদীর ডিএনএ মিলিয়ে পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ