খুলনা | মঙ্গলবার | ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ভারতের ওড়িশা উপকূলে জাহাজ ডুবি

বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাতক্ষীরার আবদুল্লাহ আল মামুন নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০২:৩২ এ.এম | ২৫ অগাস্ট ২০২৬


ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’ এর বাংলাদেশি মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন নিখোঁজ রয়েছেন। জাহাজ ডুবির পর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবার।  
নিখোঁজ মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আব্দুল আল মামুন এর বাড়ি সাতক্ষীরায়। তিনি শহরের আমতলা গণমুখি মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোনায় নিরালা অবাসিক এলাকার ডাঃ আব্দুর রহিমের ছেলে। তাদের পৈতৃক নিবাস আশাশুনি উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বাঁকড়া গ্রামে।
আল মামুনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল বাকি  বলেন, গত বুধবার পরিবারের সঙ্গে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। শনিবার দুপুরের দিকে পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভারতের ওড়িশা উপকূলে বঙ্গোপসাগরে একটি  জাহাজ ডুবির খবর পান তারা। তবে এখন পর্যন্ত মামুনের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
পরিবারের উৎকণ্ঠার কথা জানিয়ে তিনি অরো বলেন, ‘আম্মুর আগে থেকেই হার্টের সমস্যা আছে, আব্বুরও বয়স হয়েছে। মামুনের ঘটনা জানার পর থেকে পরিবারের সবাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। মামুনের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বারবার। তিনি আরো বলেন, মামুনের বিষয়ে এখন কোনো দিক থেকে আপডেট পাচ্ছি না। জাহাজ ডুবি সংক্রান্ত কোনো খবর ইন্ডিয়ান কোস্টগার্ডের পেজে কখন আপডেট হয়, তারা কোনো ব্রিফিং করে কি না সেটার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।
মামুনের খোঁজের বিষয়ে তাঁর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করছেন বাল্যবন্ধু সাদাত আল কাবিজু। তিনি জানান, গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে ‘এমভি ওশান উইনার’ জাহাজে যোগ দেন মামুন। ওড়িষ্যা উপকূল থেকে জাহাজ ছাড়ার রাতে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে মামুনের সর্বশেষ কথা হয়। তারপর জাহাজ ডুবির ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে তার সাথে আর কোন যোগযোগ হয়নি। সাদাত বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির কাছেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।
মামুনের প্রতিবেশী সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, ছেলের নিখোঁজের পর থেকে বাড়ির সবাই খুবই উদ্বিগ্ন। জাহাজ ডুবির পর থেকে পরিবারের সদস্যরা কেউই তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেনি। মামুনের মা দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার স্ত্রীও খুবই কান্নাকাটি করছে। মামুনের বাবা ডাঃ আব্দুর রহিম সাহেবও খুবই ভেঙে পড়েছেন।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানান, জাহাজ ডুবির ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিচ্ছেন।
এদিকে দ্রুত মামুনের সন্ধান পাওয়ার আশায় তার পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানয়েছেন।
প্রসঙ্গত, প্রায় ১ হাজার ৭০০ টন লৌহ আকরিক নিয়ে পানামার পতাকাবাহী এমভি ওশন-উইনার নামের জাহাজটি গত ২০ আগস্ট ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। জাহাজটিতে ছিলেন মোট ২৪ জন ক্রু। এই ক্রুদের মধ্যে ২০ জন চীন, ৩ জন মিয়ানমার এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। গত ২২ আগস্ট শনিবার বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে ২৪ জন ক্রুসহ জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজ ডুবির পর এখন পর্যন্ত দু’জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ২২ জনের সন্ধানে অভিযান চলছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দু’জন চীনের নাগরিক।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ