খুলনা | মঙ্গলবার | ২৫ অগাস্ট ২০২৬ | ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ইসমাইল শেখ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, বিদেশি পিস্তল-গুলি উদ্ধার : গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৩:১২ এ.এম | ২৫ অগাস্ট ২০২৬


নগরীতে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ কর্মী মোঃ ইসমাইল শেখ (৩৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে উলে­খযোগ্য সাফল্য পেয়েছে সদর থানা পুলিশ।
হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ফারদিন খানসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার তাঁদেরকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া অপর দুই আসামি হলেন মোঃ রায়হান মোল­া ও সাইফুল হাওলাদার। এসময়ে তাঁদের কাছ থেকে তিন রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি শটগানের গুলি, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের ৯টি সিমকার্ড ও শীর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন ‘বি কোম্পানি’র লোগো-সম্বলিত ৫টি গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে নগরীর মহির বাড়ি বড় খালপাড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে মোঃ ইসমাইল শেখকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর খুলনা সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ আগস্ট বিকেল ৪টার দিকে হত্যা মামলার ১ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মোঃ ফারদিন খান (২৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লবণচরা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার সঙ্গে জড়িত অপর দুই আসামি মোঃ রায়হান মোল­া (২৪) ও মোঃ সাইফুল হাওলাদার (২৪)- কে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও উদ্ধারকৃত আলামতের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
জানতে চাইলে খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসী ফারদিন খানকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলাম। রোববার বিকেলে টুটপাড়া মেইনরোডে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় সে। পরবর্তী সময়ে তার দেখানো পথ অনুসরণ করেই রাত সাড়ে ১২টার কিছুক্ষণ পর লবণচরা থানা এলাকা থেকে অপর দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
ওসি আরও বলেন, রায়হান মোল­ার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি এবং সাইফুল হাওলাদারের কাছ থেকে শটগানের তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আসামি ফারদিন খানের বিরুদ্ধে ৪টি হত্যা, ১টি অস্ত্র, ১ মাদক ও ১টি অন্যান্য মামলা রয়েছে। সব বিষয় খাতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কেএমপির উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ রোজাউর রহমান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, মাদক-কান্ড ও এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইসমাইলকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। গ্রেফতার সন্ত্রাসীরা গ্রেনেড বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ