খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ জানুয়ারী ২০২২ | ১৪ মাঘ ১৪২৮

যুবলীগের সম্মেলন ২২ জানুয়ারি : চলছে জোরালো লবিং

নগর ও জেলায় হেভিওয়েট প্রার্থী ২০

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:০৮ এ.এম | ১০ জানুয়ারী ২০২২


প্রায় এক যুগ পর নগর ও দেড় যুগ পর খুলনায় নগর ও জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনকে ঘিরে শীর্ষ পদ প্রত্যাশীদের মধ্যে চলছে জোরালো লবিং। শীর্ষ পদ প্রত্যাশী ও তাদের অনুসারিদের মধ্যে চলছে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা কেন্দ্রে জমাও দিয়েছেন তাদের জীবন-বৃত্তান্ত। নগর ও জেলায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন ২০ জন। নগরে সভাপতি পদে সফিকুর রহমান পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক পদে  শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন জমা দিয়েছেন জীবন বৃত্তান্ত। এছাড়া জেলায় সভাপতি পদে ছয় জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এগারো জন জীবন বৃন্তান্ত জমা দিয়েছেন। জীবন বৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পর সরব হয়ে উঠেছে দলীয় কার্যালয়। হিসাব-নিকাশ চলছে বিগত দিনের আমলনামা নিয়ে। 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নগর যুবলীগে সভাপতি পদে জীবন বৃত্তান্ত দিয়েছেন সফিকুর রহমান পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক পদে জীবন বৃত্তান্ত দিয়েছেন শেখ শাহজালাল হোসেন সুজন। খুলনা জেলা যুবলীগে সভাপতি পদে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন ছয় জন। এরা হলেন চৌধুরী মোহাম্মদ রায়হান ফরিদ, হাদীউজ্জামান হাদী, আরাফত হোসেন পল্টু, অজিত বিশ্বাস, সরদার জাকির হোসেন, জসিম উদ্দিন বাবু। 
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন এগারো জন। এরা হলেন এবিএম কামরুজ্জামান, দেব দুলাল বাড়ই বাপ্পি, হারুন-উর-রশিদ, মোঃ পারভেজ হাওলাদার, মুশফিকুর রহমান সাগর, আব্দুল জলিল তালুকদার, তসলিম হুসাইন তাজ, মোঃ কামরুজ্জামান মোল­া, আব্দুল­াহ আল-মামুন, মোঃ আবু সাঈদুজ্জামান, মাহফুজুর রহমান সাগর। খুলনা জেলা যুবলীগের বর্তমান দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রিয়াজ আজ সোমবার জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী হিসেবে তিনি কেন্দ্রে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিবেন। 
দীর্ঘ এগারো বছর পর ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর নগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে নতুন আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে সফিকুর রহমান পলাশকে আহবায়ক ও শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজনকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ২৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বিশেষ সাধারণ সভায় ২০২২ সালের ২২ জানুয়ারি সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। 
অপর দিকে, ২০০৩ সালের ২৫ মে খুলনা জেলা যুবলীগের সর্বশেষ ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে মোঃ কামরুজ্জামান জামাল সভাপতি ও আক্তারুজ্জামান বাবু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর ছয় মাস পর ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন সম্মেলন বা কাউন্সিল না হওয়ায় জেলা যুবলীগের বর্তমান সাংগঠনিক কর্মকান্ড ছিল অনেকটা স্থবির। নয়টি উপজেলা ও ৬৮টি ইউনিয়ন কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। 
এদিকে ২০২০ সালে দেশব্যাপী মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে সংগঠনের কর্মকান্ড ঝিমিয়ে পড়ে। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর জেলা যুবলীগ তৃণমূলে ঢেলে সাজাতে উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে শুরু করেছে যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন।  
২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে মোঃ কামরুজ্জামান জামাল ও আক্তারুজ্জামান বাবু খুলনা জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পান। এর পরের সম্মেলনে তারা জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক হয়েছেন। আক্তারুজ্জামান বাবু বর্তমানে খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য। 
নগর যুবলীগে সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী সফিকুর রহমান পলাশ। তিনি ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নগর ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি নগর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যের দায়িত্বেও ছিলেন। পরিচ্ছন্ন ছাত্র রাজনীতির প্রতীক হিসেবে তিনি পরিচিতিও পেয়েছে। ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ছাড়ার পর তিনি নগর যুবলীগের কর্মকান্ডে নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। বর্তমানে তিনি নগর যুবলীগের আহবায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। 
এদিকে নগর যুবলীগে সাধারণ সম্পাদক পদে একমাত্র প্রার্থী নগর ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন। পরিচ্ছন্ন ছাত্র রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত শেখ সুজন আ’লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের কাছে স্নেহভাজন। তিনি ২০১০ সালে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-পাঠাগার সম্পাদক, ২০১৫ সালে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি এবং পরবর্তীতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে সুজন নগর যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। পারিবারিক দিক থেকেও সুজনের খ্যাতি রয়েছে। তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ শহিদুল হক ষাটের দশকে তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি নগর শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে তিনি আ’লীগকে সুসংগঠিত করতে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।   
যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহাজাদা বলেন, ‘আগামী ২২ জানুয়ারি মহানগর ও জেলা যুবলীগের সম্মেলন। এজন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত চাওয়া হলে ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে শীর্ষ পদ প্রত্যাশীরা জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।’ 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ