খুলনা | সোমবার | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফুলতলায় কথিত সাংবাদিক বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ফুলতলা প্রতিনিধি |
১১:৫৩ পি.এম | ২৯ অগাস্ট ২০২৬


ফুলতলা বাজারের ইউএসএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালক মোঃ জাকারিয়া হুসাইন অভিযোগ করে বলেছেন, জনৈক এফ এম মামুন ওরফে রুবেল ওরেফ জঙ্গী মামুনকে তার দাবিকৃত চাঁদা প্রদান করা হয়নি। ফলে তার অনিবন্ধিত ভ‚ঁইফোড় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক জনসংলাপ’-এর ফেসবুক পেইজে গত ২৩ আগস্ট এবং ২৭ আগস্ট আমাদের প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে যড়যন্ত্রমূলকভাবে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ খবর ভিডিও প্রকাশ করে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি। 
শনিবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব ফুলতলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার থেকে নিবন্ধন নিয়ে গত ১৭ বছর ধরে সুনামের সাথে ইউএফএস ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় নির্ভ‚লভাবে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা ও রিপোর্ট প্রদান করে এলাকার রোগীদের সেবা করে আসছি। গত ১৪ আগস্ট ঝর্ণা বেগম নামে এক জ্বরের রোগী একজন পল্লী চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে ভিডাল টেস্ট করার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানে আসে। টেষ্টে টাইফয়েডের জীবানু শনাক্ত হওয়ায় সে অনুযায়ী রিপোর্ট প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে ২২ আগষ্ট রাত সাড়ে ৮টায় অনিবন্ধিত ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল দৈনিক জনসংলাপর সম্পাদক পরিচয় দানকারী সাংবাদিক এফ এম মামুন ওরফে জঙ্গী মামুন অজ্ঞাত আরও এক ব্যক্তিকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে আমাদের প্রতিষ্ঠানে আসেন। টেষ্ট রিপোর্টকে ভুলবলে আখ্যা দিয়ে আমাদের কাছে নগদ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে নিউজ পোর্টালে, পত্রিকাতে প্রকাশ এবং ভিকটিমকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আমাদের প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করে দেয়ার জন্য আবেদন করা হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। দাবিকৃত টাকা না পাওয়ায় ২৩ আগস্ট ১ম দফায় ফেসবুক অনলাইনে আমাদেরকে জড়িয়ে একটি ভ‚য়া ভিডিও রিপোর্ট প্রচার করে। কিন্তু কোন টাকা না দেয়ায় পরবর্তীতে ২৭ আগস্ট পুনঃরায় আমাদের প্রতিষ্ঠানকে জড়িয়ে ওই ভ‚য়া সংবাদ, ভিডিও এবং স্বাক্ষাতকার প্রচার করে। 
উল্লেখ থাকে যে, ডাক্তারের এ্যাডভাইস অনুসারে প্যাথলজিতে শুধু টেষ্টের রিপোর্ট প্রদান করা হয়। ওই দিনই অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে পুনরায় টেস্ট করলে যদি রিপোর্ট ভিন্ন আসে সেক্ষেত্রে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা যায়। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে নয়। তাদের ওই ভিডিওতে ফুলতলা এলাকার প্রবীন চিকিৎসক ও সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে অবসরে আসা মেডিকেল এ্যাসিষ্টান্ট শফিউদ্দিন মোল্যাকে কোয়াক ডাক্তার বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও হেয় প্রতিপন্ন করে ভুল চিকিৎসার দায়ভার চাপিয়ে দেয়। 
জামিরা ইউনিয়নের পিপরাইল গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা জামায়াতের বায়তুল মাল সেক্রেটারী ফ ম আব্দুর রহমানের পুত্র এফ এম মামুন  ২০০১ সালে খুলনার বৈকালিতে অবস্থিত তৎকালিন হোটেল রূপসা ইন্টারন্যাশনালে বোমা তৈরীকালে কয়েকজন সহযোগিসহ পুলিশের হাতে আটক  হয়ে দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকে। পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে এসে নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে সাংবাদিকতার আড়ালে ফের জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত হয়। গত কয়েক বছরে একাধিকবার নাশকতা, অস্ত্র ও বোমাসহ গ্রেফতার হয়। যা বিভিন্ন পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ পায়। এ ব্যাপারে ফুলতলা থানায় অন্তত ৩টি মামলার আসামী মামুন গত এপ্রিল মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজের সাবেক পরিচালক ও ফুলতলার এ গফুর মেমোরিয়াল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদকে জড়িয়ে অনুরুপ কাল্পনিক ও মনগড়া ভিডিও তার অনিবন্ধিত নিউজ পোর্টালে প্রচার করে। এ ব্যাপারে ডাঃ এটি এম মঞ্জুর মোর্শেদ বাদি হয়ে খুলনা যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে ওই কথিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। যেটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত ভ‚য়া সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ