খুলনা | সোমবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৬ | ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

শিশুর ভিডিও ভাইরাল

অর্থাভাবে চিকিৎসা থমকে যাওয়া কয়রার অসহায় জান্নাতুলের পাশে ডাঃ জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০৬ এ.এম | ৩১ অগাস্ট ২০২৬


খুলনায় অর্থাভাবে চিকিৎসা থমকে যাওয়া খুলনা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডাঃ জুবাইদা রহমান। জান্নাতুলের উন্নত ও সমন্বিত চিকিৎসার জন্য সোমবার একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জান্নাতুলের পরিবারের আকুতি জানিয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিও ডাঃ জুবাইদা রহমানের নজরে আসে। ভিডিওটি দেখার পর তিনি শিশুটির চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডাঃ শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন জান্নাতুল ফেরদৌসকে দেখতে যান খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি শিশুটির শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান, চিকিৎসকদের সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে জেডআরএফের সদস্য ডাঃ এম আর হাসানের মাধ্যমে জান্নাতুল ও তার পরিবারের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন।
জান্নাতুলের মা আজমিরা বেগম জানান, তাদের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলায়। অভাব-অনটনের সংসারে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম সংকটে রয়েছেন তিনি। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছোট ছেলেটির বয়স মাত্র আট বছর।
তিনি জানান, জান্নাতুল দৌলতপুরের দেয়ানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। পরে কয়রার একটি হেফজখানায় ভর্তি হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।
আজমিরা বেগমের ভাষ্য, মাত্র দুই মাস বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই জান্নাতুলের দুই পা ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে শুরু করে। দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি বর্তমানে তার নার্ভের সমস্যা ও বেড সোর (শয্যাক্ষত) দেখা দিয়েছে। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তাদের পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে একজন ব্যক্তি জান্নাতুলের পরিবারের অসহায়ত্ব তুলে ধরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে আসার পর সংশ্লিষ্টরা তাদের পাশে দাঁড়ান এবং জান্নাতুলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জেডআরএফ সদস্য ডাঃ এম আর হাসান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি নজরে আসার পরই ডাঃ জুবাইদা রহমান শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে বিষয়টি তদারকির নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জান্নাতুলের চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সোমবার তার সুচিকিৎসার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে।
খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে আমাকে ফোনে জানানো হয়। খবর পাওয়ার পরপরই আমি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং জান্নাতুল ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। শিশুটির দ্রুত আরোগ্যের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে অব্যাহত থাকবে।
অসহায় পরিবারের আকুতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জান্নাতুলের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় পরিবারের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে জান্নাতুল দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে, এটাই তার পরিবার ও শুভাকাক্সক্ষীদের প্রত্যাশা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ