খুলনা | মঙ্গলবার | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

২০৩০ সালের মধ্যে ‘এক গ্রেড এক পেনশন’

পেনশন বাড়ল পাঁচ ধাপে, সর্বোচ্চ ১০০% ও সর্বনিম্ন ৫৫%

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৯ এ.এম | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অবসরে যাওয়া পেনশনভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন স্তর (স্ল্যাব) অনুযায়ী পাঁচ ধাপে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী যাঁরা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন ও যারা তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন গ্রহণকারীদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার এক টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার এক টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়বে। ফলে যেসব পেনশনভোগী দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন ও তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পেনশন বৃদ্ধির পরিমাণ বেশি হবে।
এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বর্তমান সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন (ওয়ান র‌্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন-ওআরওপি)’ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। এ পদ্ধতি সামরিক ও অসামরিক সব ক্ষেত্রে একই সঙ্গে বাস্তবায়ন হওয়া প্রয়োজন। পদ্ধতি এই মুহূর্তে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় এবং অসামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের আগের অবসর গ্রহণকারীদের কোনো তথ্য না থাকায় সরকার এ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ মুহূর্তে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান ও বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্তর (স্ল্যাব) ভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মূল বেতন বাস্তবায়িত হবে তিন ধাপে, ভাতা দেওয়া হবে ২০২৮ সালে : সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং গ্রেড ১২ থেকে ২০ পর্যন্ত মূল বেতন ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো গত ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন হবে, তবে একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়িত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১ জুলাই থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বেতন স্কেল বাস্তবায়নের আর্থিক অবস্থা ও মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুরো বেতন স্কেল একযোগে বাস্তবায়ন না করে চলতি ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-২৮ এই দুই অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৭) মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে।
পেনশনভোগী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ধাপভিত্তিক নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে, যা এ বছরের ১ জুলাই থেকে একইভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও বেসামরিক কর্মচারী (আইন অনুযায়ী সবাই কর্মচারী) এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এই অর্থের সংস্থান সংশ্লিষ্ট অর্থ বছরগুলোর বাজেটে রাখা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ