খুলনা | মঙ্গলবার | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইল ফোন কোম্পানি হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা!

শামিম আশরাফ শেলী |
০১:৪৮ এ.এম | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রতারণার মাধ্যমে মোবাইল ফোন কোম্পানি গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ গ্রাহকদের। তাদের দাবি তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ফোন কোম্পানি তাদের একাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিচ্ছে।
মহানগরীর বাসিন্দা মোঃ আশরাফ, আব্দুর রব, সাবিহা আক্তার,  তারা এই প্রতিবেদককে জানান, তারা সবাই বাংলালিংক মোবাইল ফোন কোম্পানির গ্রাহক, তারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে তারা হঠাৎ মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে দেখতে পান একটি ম্যাসেজ যাতে বলা হচ্ছে যে, “বিউটি টিপস্ ডেইলি অনডিমান্ড” সার্ভিসটি চালু হয়েছে, চার্জ ২.৭৮টাকা। এবং একটি নাম্বার দিয়ে বলা হচ্ছে যে যদি সার্ভিসটি না চান তবে এই নম্বর টিপে স্টপ করুন। কিন্তু ততক্ষণে ২.৭৮ টাকা কেটে নেওয়া হয়ে গেছে। 
ঠিক একই ভাবে কখনও মোবাইল স্ক্রিনে ভেসে উঠছে যে, “মিউজিক নিউজ ডেইলি অনডিমান্ড” সার্ভিসটি চালু হয়ে গেছে এবং না চাইলে স্টপ করুন, কিন্তু ততক্ষণে ২.৭৮টাকা নেই। 
গ্রাহকদের অভিযোগ, কিভাবে এবং কে-কার অনুমতি নিয়ে এসব অ্যাপ চালু করে তাদের টাকা লুটে নিচ্ছে তা তাদের বোধের অগম্য।
সূত্রমতে, বর্তমানে বাংলালিংক কোম্পানির গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৭৭ লাখ এবং মাসে যদি প্রত্যেকের নিকট থেকে একবারও উল্লিখিত পদ্ধতিতে টাকা হাতিয়ে নেয় তা হলে কোন সার্ভিস না দিয়েই তারা গ্রাহকদের পকেট থেকে মাসে লুট করছে সাড়ে ১০ কোটি টাকার অধিক!
গ্রাহকদের অভিযোগ, আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে মাত্র দুই তিন টাকার ব্যাপার, কিন্তু বিষয়টি যখন কোটি কোটি গ্রাহকের সাথে ঘটে তখন সেটা শত শত কোটি টাকায় পরিণত হয়। এটা এই কোম্পানিগুলির একটা বিশেষ অপ-কৌশল, কারণ একজন গ্রাহক হয়তো এই সামান্য টাকার জন্য উত্তেজিত হবে না অথচ একজন একজন করে তারা কোটি কোটি গ্রাহকের নিকট থেকে খুব সহজেই বিনা খরচে শত শত কোটি টাকা লুটে নিতে সক্ষম হচ্ছে। কোম্পানির এই অনৈতিক লুটপাট বন্ধ এবং কৃত কর্মের প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীগণ।
এ বিষয়ে একজন অভিযোগকারীর মোবাইল ফোনের উল্লিখিত ম্যাসেজ প্রদর্শনসহ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর শিববাড়িস্থ বাংলালিংক কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসের একজন কর্মী এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ বিষয়টি অবশ্যই বে-আইনী, কিন্তু তাদের কিছু করণীয় নেই। কিভাবে এটা হচ্ছে তা একমাত্র কোম্পানিই জানে। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে কোম্পানির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ জানাতে চায় তা হলে তারা অভিযোগটি কোম্পানীর কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ