খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

আট বিভাগে হবে ২০টি ‘মডেল খাল’ চাই টেকসই বাস্তবায়ন

|
১২:০০ এ.এম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর খাল পুনঃখননের মতো প্রয়োজনীয় কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এবার সেই খালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০টি খাল ‘মডেল খাল’ হিসেবে নিয়ে বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। খননকৃত খালগুলো শুধু পানিধারণ ও নিষ্কাশনের কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবিকা, কর্মসংস্থান, সামাজিক বনায়ন ও দুর্যোগসহনশীলতার সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই এই কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। ২০টি খালের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, এতে প্রায় দুই হাজার ৪০০ পরিবার উপকৃত হবে।
খবরে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি খসড়া ধারণাপত্রে নতুন এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ধারণাপত্রের মূল দর্শনই হলো-‘খাল খনন নয়; খননকৃত খালের বহুমুখী ব্যবহার’। অর্থাৎ খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ, ধারণক্ষমতা, পরিবেশ ও জনসাধারণের বৈধ ব্যবহার অক্ষুণœ রেখে উপযুক্ত খালে সামাজিক বনায়ন, মাছ ও হাঁস পালন, খালপারে মৌসুমি সবজি চাষ এবং অন্যান্য উৎপাদনমূলক কর্মকাণ্ড চালু করা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে প্রণীত এই পরিকল্পনায় নির্বাচিত মডেল খালে নানা কর্মসংস্থানের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা বিভাগে তিনটি, চট্টগ্রামে তিনটি, রাজশাহীতে তিনটি, খুলনায় তিনটি, রংপুরে দু’টি, সিলেটে দু’টি, বরিশালে দু’টি এবং ময়মনসিংহে দু’টি মোট ২০টি খালকে পাইলটের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের যাচাই শেষে চূড়ান্ত খাল নির্বাচন করা হবে।
দেশের খাল-বিল-নদী-নালার অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বহু খাল-বিল দূষণে-দখলে কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। এমনকি দেশে কতগুলো খাল রয়েছে, সেই প্রকৃত সংখ্যাও অজানা। এই বাস্তবতায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে। এছাড়া দখলকৃত খাল পুনরুদ্ধারে সারা দেশে খাল চিহ্নিত ও মানচিত্রভুক্ত করতে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ৩০ হাজার খালকে চিহ্নিত, শ্রেণিবিন্যাস ও ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনতে একটি কারিগরি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন। বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি প্রকল্পের সুফল পুরোপুরি আসছে না। অভিযোগ রয়েছে, খাল পুনঃখননের টাকা নিয়েও নয়ছয় হয়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে এক খবরে দেখা গেছে, বরিশালে সাত খাল খনন না করেই তিন কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ছাড়া খাল খননের পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেও এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ক্ষেত্রে মডেল খালের ধারণা ইতিবাচক ফলাফল দিতে পারে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, পুনঃখননের পর খাল যাতে আবার ভরাট, দখল বা অব্যবস্থাপনার শিকার না হয়, সে জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে খালকে একটি উৎপাদনশীল ও সংরক্ষণযোগ্য সামাজিক সম্পদে পরিণত করার চিন্তা করা হচ্ছে।
আমরা মনে করি, মডেল খালের যে ধারণা তার সুফল পেতে হলে এর টেকসই বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তথ্য যাচাই-বাছাই করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে যেন অনিয়ম না হয় তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো একান্ত অপরিহার্য।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ