খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ট্রলার উঠানো হয় অতিরিক্ত যাত্রী, মানা হয় না শিশুশ্রম সন্ধ্যার পর অধিকাংশ ট্রলারে জ্বলে না বাতি

২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও ভৈরব নদে নিখোঁজ হওয়া রাকিবের সন্ধান মেলেনি

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০২:০৭ এ.এম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হলেও ভৈরব নদের জেলখানা ঘাটে যাত্রীবাহি ট্রলারের সাথে ফেরির ধাক্কা লেগে ডুবে যাওয়া নিখোঁজ রাকিবের এখনো সন্ধান মেলেনি। মঙ্গলবার রাতে নিখোঁজ হওয়া থেকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল পৃথক পৃথক উদ্ধার কাজ চালালেও রাকিবের সন্ধ্যান পাওয়া যায়নি। গত মঙ্গলবার আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টায় এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।  
সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, খুলনার ভৈরব নদের জেলখানা ঘাট থেকে একটি যাত্রীবাহি ট্রলার সেনের বাজার ফেরী ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যাত্রীবাহি ট্রলারটি কিছুদূরে গেলে ট্রলার চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে চলন্ত ফেরীর সাথে ধাক্কা লাগে। ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় মুহুর্তের মধ্যে ট্রলারটি নদীতে ডুবে যায়। ট্রলারের অধিকাংশ যাত্রী নদীতে ভাসতে থাকে। বিভিন্ন উপায়ে অনেককে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ট্রলারে কতজন যাত্রী ছিলো এ ব্যাপারে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ট্রলারে থাকা যাত্রীদের মধ্যে রাকিবকে খুঁজে না পাওয়ায় তার মা জেলখানা ঘাট এলাকায় এসে আহাজারি করতে থাকে। রাকিবের মায়ের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠে। খবর পেয়ে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চৌকস ডুবুরি দল এসে পৃথক উদ্ধার কাজ শুরু করেন।
সিসি টিভি’র ফুটেজে দেখা গেছে, রাকিব মঙ্গলবার রাতে হাফ প্যান্ট পরিহিত অবস্থায় হাতে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে দিয়ে হেঁটে  এসে জেলাখানা ফেরি ঘাটে এসে ট্রলারে ওঠে। সর্বশেষ রাকিবের লোকেশন ছিল ভৈরর নদের মাঝখানে। অনেকের ধারণা করছিলেন আদৌও কি রাকিব ভৈরব নদে ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রী ছিলেন। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে গতকাল বুধবার সকালে প্রথম দফায় নৌবাহিনীর ডুবুরি দল বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চালায়। দ্বিতীয় দফায় বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চৌকস ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ চালিয়েছেন। এর পরও নিখোঁজ রাকিবের সন্ধান মেলেনি। 
এদিকে জেলখানা ঘাট দিয়ে চলাচলরত অধিকাংশ যাত্রী বলেন শিশুশ্রম মেনে ট্রলার চালানো হয়না। অধিকাংশ সময় শিশু সন্তানদের দিয়ে ট্রলার চালানো হয়। ট্রলারে উঠানো হয় অতিরিক্ত যাত্রী। কথা বললে তাদের সাথে করা হয় খারাপ আচরণ। সন্ধ্যার পর অধিকাংশ জ্বলে না বাতি। 
উলে­খ্য, এক বছর আগে যাত্রীবাহি ট্রলার ফেরীর সাথে ধাক্কা লেগে আকাশ নামে এক যুবক নদীতে ডুবে যায়। পরে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আকাশ নামে যুবককে মৃত উদ্ধার করনে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ