খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

বিচারে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রভাব নেই : প্রসিকিউটর তামিম

খবর প্রতিবেদন |
০২:১৩ এ.এম | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫ অগাস্ট দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে নেতাকর্মীদের উসকানি দিয়ে বক্তব্য দিলেও বিচার কার্যক্রমে এর কোনো প্রভাব পড়ছে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জি এইচ তামিম। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি। বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে তার নেতাকর্মীদের উসকানি দিচ্ছেন যে-যারা আন্দোলন করেছে বা যারা এখন দেশ চালাচ্ছে তাদের বাড়িঘরে আগুন দিতে, তাদের উপরে হামলা করতে। ‘আর বসে থাকার সময় নেই’-এ ধরনের বক্তব্য উনি সব সময় দিয়ে যাচ্ছেন। এটা উনার একটা নেচার।’
ট্রাইব্যুনালের আদেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের একটি আদেশ আছে যে উনার এই ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে এমন বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। সেই অনুযায়ী বেশ কয়েকটি বক্তব্য ওয়েবসাইট বা পোর্টাল থেকে সরিয়েও ফেলা হয়েছে।’
তবে এসব বক্তব্যের বর্তমানে কোনো প্রভাব নেই জানিয়ে এই প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমি মনে করি, উনার এসব বক্তব্যের আসলে কোনো ইমপ্যাক্ট এখন আর পড়ছে না। কারণ দীর্ঘদিন ধরে তিনি একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা উনার এ সকল বক্তব্যকে ধার্তব্যের মধ্যেই নিচ্ছি না।’
মামলার সংখ্যা ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জি এইচ তামিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে গণহত্যার মামলা, গাজীপুর ও কল্যাণপুরে তথাকথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ১৬ জনকে (গাজীপুরে ৯ জন ও কল্যাণপুরে ৭ জন) হত্যার মামলা। পাশাপাশি র‌্যাবের টিএফআই নামক বন্দিশালায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা এবং জিআইসি নামক বন্দিশালায় সংঘটিত গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও ক্রসফায়ার ও গুম সংক্রান্ত আরও একটি মামলা চলমান।’
বিচারের অগ্রগতি নিয়ে প্রসিকিউটর বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে ইতোমধ্যে উনার একটি মামলা শেষ হয়েছে। সেই মামলার যে রায় হয়েছে, প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হলো সেটি সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আইন অনুযায়ী সরকার এই রায় বাস্তবায়ন করবে। আর বাকি মামলাগুলোতে আমরা সাক্ষী হাজির করছি, সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।’
এর আগে গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে রায় ঘোষণা হওয়া এটিই প্রথম মামলা। তিনটি পৃথক অপরাধে তাকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া আরও দুইটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আর, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ