খুলনা | শুক্রবার | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বৃহত্তর সমাজকে যুক্ত করতে হবে : ড. দেবপ্রিয়

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৯ এ.এম | ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানীয় ফেলো (সিপিডি) ও এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহŸায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুধু সাদা-কালো অবস্থান নিয়ে এগিয়ে গেলে হবে না। বিষয়টি বাস্তবতার আলোকে দেখতে হবে। দীর্ঘ ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বৃহত্তর সমাজকে এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সিডও দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ আয়োজিণ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সিডও সনদের ২ ও ১৬ নম্বর ধারাকে ঘিরে সংরক্ষণ রয়েছে। তবে সব মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ একই ধরনের সংরক্ষণ দিয়েছে, বিষয়টি এমন নয়। তিউনিসিয়া, মরক্কো ও ফিলিস্তিনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও এসব দেশে এ ধরনের সংরক্ষণ নেই।
তিনি বলেন, সংরক্ষণকে শুধু ভালো বা খারাপ হিসেবে দেখলে হবে না। কোথাও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার জন্যও সংরক্ষণ দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিষয়টি অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
দেবপ্রিয় বলেন, ৪০ বছর ধরে সিডও নিয়ে আলোচনা হলেও বৃহত্তর সমাজকে এই আন্দোলনের সঙ্গে যথেষ্টভাবে যুক্ত করা যায়নি। যারা এই আলোচনায় অস্বস্তি বোধ করেন, তাদের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। শুধু নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং সরকারের ওপর চাপ দিয়ে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। সামাজিক আন্দোলনকে ভিন্নমতের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
সংসদ সদস্যদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আরও বেশি যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন সংসদ সদস্য যদি নারী অধিকার ও সম্পত্তিতে সমঅধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তার প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে। এ কারণে বিষয়টি সংসদে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।
নারীর সম্পত্তির অধিকার ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের সম্পর্ক তুলে ধরে দেবপ্রিয় বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের অনেক সময় ঋণ নেওয়ার জন্য জামানত দিতে হয়। কিন্তু সম্পত্তির মালিকানা না থাকায় অনেক নারী এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। একইভাবে গবেষণায় দেখা গেছে, পারিবারিক সহিংসতার সঙ্গে নারীর সম্পত্তিহীনতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সম্পত্তি না থাকায় নারীর অসহায়ত্ব ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, চরম দরিদ্র নারীদের ক্ষেত্রেও সম্পত্তিহীনতা একটি বড় সমস্যা। শ্রমজীবী নারীর অংশগ্রহণ কমছে বলে যে আলোচনা হয়, তার একটি অংশ আসলে মজুরিবিহীন ও অনানুষ্ঠানিক শ্রমে চলে যাচ্ছে। ফলে নারীর অর্থনৈতিক অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে হলে সম্পত্তি, আয় ও শ্রমের বিষয়গুলো একসঙ্গে দেখতে হবে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য আইনি সমাধান বের করতে হবে। ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকারের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এমন আইনি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যা নারীর অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, মহিলা পরিষদের আইনগত ও গবেষণাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। একদিকে জনমত গঠন করতে হবে, অন্যদিকে কারিগরি ও আইনি সমাধান বের করতে হবে। শুধু সরকারকে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার দাবি জানালে রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। তাই গ্রহণযোগ্য সমাধান, জনমত গঠন এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ