খুলনা | সোমবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যশোরে এতিমখানায় ঢুকে পড়ল বাস, পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই নারীসহ ৩ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:৩২ এ.এম | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই নারীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কেশবপুর উপজেলা এবং যশোর-খুলনা মহাসড়কের অভয়নগর উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন অভয়নগর উপজেলার মশরহাটি গ্রামের হাকিম গাজীর ছেলে আমজেদ গাজী ও ল²ীপুর গ্রামের আব্দুল মালেকের স্ত্রী আসিরন বিবি এবং কেশবপুর উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া বেগম।
পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অভয়নগর উপজেলার উড়োতলা এলাকায় গড়াই পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলচালক আমজেদ গাজী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা তাঁর আত্মীয় আসিরন বিবি গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজন ফরহাদ মোল্যা জানান, আমজেদ গাজী তাঁর ফুফু আসিরন বিবিকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বসুন্দিয়ায় মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে মজুমদার অয়েল মিলের সামনে গড়াই পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে তাঁদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দু’জন গুরুতর আহত হন।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাজনীন নিগার জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দু’জনকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে আনার আগেই আমজেদ গাজী মারা যান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসিরন বিবির মৃত্যু হয়।
নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিকে আটক করা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। তাঁদের আটকের চেষ্টা চলছে।
অপরদিকে কেশবপুরে এক পথচারী নারীকে চাপা দেওয়ার পর এতিমখানায় ঢুকে যায় একটি বাস। শুক্রবার সকালে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের উপজেলার মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় রোকেয়া বেগম (৪৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন।
নিহত রোকেয়া বেগম উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের রেজাউল ইসলামের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ফজরের নামাজের পর সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন রোকেয়া। যশোরগামী স্টার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে যাত্রীবিহীন বাসটি যশোরে যাচ্ছিল। বাসটি মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে গিয়ে সড়কের বাঁ পাশে থাকা পথচারী রোকেয়া বেগমকে চাপা দেয়। এরপর বাসটি সড়কের ডান পাশে ওই এতিমখানা ভবনের সামনের অংশে ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় বাসচালকের সহকারী মানিক ফকির আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুর্ঘটনার পরপর বাসের চালক পালিয়ে যান।
মধ্যকুল উত্তরপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক গোলাম মোস্তফা বলেন, বাসটি তাঁদের মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনের অংশ ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। এ ঘটনায় তাঁদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার সময় মাদ্রাসায় ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী ছিল। তবে তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি।
কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক মিনারা খাতুন বলেন, এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ করা হয়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বাসটি থানা হেফাজতে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাসচালক পালিয়ে যান।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ