খুলনা | শনিবার | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের গ্রেফতার ৪ সদস্য কারাগারে, রিমান্ড আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩৮ এ.এম | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা, অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ একটি চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নগরীর খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন নগরীর যোগীপোল এলাকার মোঃ রাকিবুল ইসলাম (৩০), তেরখাদার আরিফুল ইসলাম আরজু (২৬), দৌলতপুর এলাকার শেখ সাকির আহম্মেদ এবং খালিশপুরের মিয়ানুল ইসলাম অয়ন (২৯)। শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সিআইডি।
সিআইডির তথ্যমতে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখা অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন নজরদারিতে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। চক্রটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেটিং ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করত।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেটিংয়ে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব অথবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো, যা অনলাইন জুয়ার জন্য ব্যবহার করা হতো।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে চক্রটি নিয়মিত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন করত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরে সেই নম্বরগুলো বেটিং ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ জমা দিতেন।
সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। এরপর বাইন্যান্সের (ইরহধহপব) মতো প্ল্যাটর্ফম ব্যবহার করে অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো। এ ঘটনায় সাইবার মনিটরিং সেলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সিআইডি পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলাটি জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর একাধিক ধারায় রুজু করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর খানজাহান আলী ও খালিশপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা অনলাইন বেটিং পরিচালনা এবং অবৈধ অর্থ লেনদেন ও অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মোঃ ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে এ চক্রের মূলহোতাসহ দেশি-বিদেশি অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ