খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ জানুয়ারী ২০২২ | ১৪ মাঘ ১৪২৮

অপহরণের পর ৩ দিন পর ঢাবির সাবেক অধ্যাপকের লাশ উদ্ধার

টাকা লুটে নিতেই ঢাবি অধ্যাপককে হত্যা করেন কন্ট্রাক্টর আনারুল

খবর প্রতিবেদন |
১২:৪৮ এ.এম | ১৫ জানুয়ারী ২০২২


টাকা-পয়সা লুট করতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সাইদা গাফ্ফারকে (মোছাঃ সাইদা গাফ্ফার) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার কন্ট্রাক্টর আনারুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার সকালে গাজীপুর মহানগরীর দক্ষিণ পানিশাইল এলাকার আবাসন প্রকল্পের ভেতর একটি ঝোপের মধ্য থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। 
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনারুল ইসলাম (২৫) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ওই অধ্যাপকের নির্মাণাধীন বাড়ির কন্ট্রাক্টর ও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এ ঘটনায় একটি মামলা করেন নিহত অধ্যাপকের ছেলে সাউদ ইফখার বিন জহির।
এর আগে বুধবার (১২ জানুয়ারি) সাইদা গাফ্ফারের নিখোঁজের ঘটনায় তার মেয়ে সাদিয়া আফরিন কাশিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কাশিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবে খোদা বলেন, সাইদা খালেকের মরদেহ একটি ঝোপের মধ্যে পড়ে আছে এমন তথ্য পুলিশকে দেন রাজমিস্ত্রি আনোয়ারুল ইসলাম। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই অধ্যাপকের গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকে দেখে। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
অধ্যাপক সাইদা খালেক কাশিমপুরের পানিশাইল এলাকার মোশারফ মৃধার বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি সেখান থেকে নিজের নির্মাণাধীন প্রজেক্টের দেখাশোনা করছিলেন। ওই বাসা থেকে আনুমানিক ২০০ গজ দূরে তার মরদেহটি পাওয়া যায়। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি সাইদা খালেক নিখোঁজের ঘটনায় তার মেয়ে সাদিয়া কাশিমপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ওসি আরও বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে আর্থিক লেনদেন বা পূর্ব শত্র“তার জেরে ওই অধ্যাপককে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাউদ ইফতেখার জহির বাদী হয়ে আনোয়ারুল ইসলামকে আসামি করে কাশিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, গত বুধবার (১২ জানুয়ারি) থেকে অধ্যাপক সাইদা খালেককে পাওয়া যাচ্ছিল না। জিরানী বাজারে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একটি আবাসন প্রকল্প আছে। ওই প্রকল্পের পাশে তিনি একটা বাসায় ভাড়া থাকতেন। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মচারীকেও গত বৃহস্পতিবার থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাকে গাইবান্ধা থেকে আটকের পর তার জবানবন্দির ভিত্তিতে কাশিমপুর থানা পুলিশ শুক্রবার সাইদা খালেকের মরদেহ উদ্ধার করে। 
তিনি বলেন, কর্মচারীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কাশিমপুর থানা তার মরদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করেছে। ওই কর্মচারী পুলিশ হেফাজতে আছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কাশিমপুর থানার পরিদর্শক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব এ খোদা বলেন, নির্মাণ শ্রমিক আনোয়ারুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।  
কাশিমপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শেখ মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার আনারুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি অধ্যাপক সাইদার হাতে টাকা দেখে তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে তিনি চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান আনারুল।
নিহত সাইদা গাফফারের স্বামী মৃত জহিরুল হক। তার ছেলে সাউদ ইফখার বিন জহির ঢাকার উত্তরার পশ্চিম থানার ১২ নম্বর রোডের ১৭ নম্বর বাড়িতে বসবাস করেন। তার তিন মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এবং একজন দেশে থাকেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ