খুলনা | শনিবার | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

জেন-জিদের পর এবার জেন-আলফা আন্দোলনে উত্তাল ভারত

খবর প্রতিবেদন |
০২:০৩ এ.এম | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জেনারেশন জির বিক্ষোভের পর এবার শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাজপথে নেমেছে জেন আলফা বা স্কুল শিক্ষার্থীরা। স্কুলের জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যুৎ ও পানির অভাবসহ নানা সমস্যার সমাধানে বিক্ষোভে নেমেছে স্কুলশিক্ষার্থীরা। গত জুলাইয়ের শেষ দিক থেকে দেশটির অন্তত ১০টি রাজ্যে এমন প্রতিবাদ হয়েছে। শুক্রবার আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের সামুহি ভাটপুরওয়া গ্রামের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১২২ শিক্ষার্থী গত ২২ আগস্ট ক্লাস বর্জন করে নতুন ভবনের দাবিতে বিক্ষোভ করে। স্কুলটির পুরোনো ভবনের একটি অংশ ২০২৩ সালে ধসে এক ছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছিল। এরপর থেকেই নতুন ভবনের দাবি জানিয়ে আসছিল শিক্ষার্থীরা।
অন্তত ১০টি রাজ্যের গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীরা জরাজীর্ণ ভবন, শিক্ষক সংকট, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ও নিম্নমানের মধ্যাহ্নভোজনের প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। 
মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্যের স্কুলেও শিক্ষক সংকট, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, বেঞ্চ ও অবকাঠামোর দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। বিহারের একটি স্কুলে নিম্নমানের মধ্যাহ্নভোজের প্রতিবাদে প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী চার কিলোমিটার হেঁটে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানায়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী ১৫ লাখ স্কুলে পড়াশোনা করে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখের বেশি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। প্রায় ২৯ লাখ শিক্ষার্থী এসব স্কুলে পড়াশোনা করে।
স¤প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বেকারত্ব নিয়ে জেন জি-র নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ধারাবাহিকতায় এই নতুন আন্দোলন শুরু হয়।
সিজেপি গত ১৫ আগস্ট থেকে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই শিক্ষার্থীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মীদের মতে, বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইন (আরটিই) ২০০৯ সত্তে¡ও ভারতের বহু সরকারি স্কুলে মৌলিক সুবিধার চরম অভাব রয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, এই গণবিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ তরুণ ও এই শিশু শিক্ষার্থীরা ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে নতুন ভোটার হিসেবে প্রভাব ফেলবে।
আন্দোলনের পটভূমি: ভারতে মোট ২৫ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নতির দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশটিতে প্রায় ১ লাখের বেশি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে সব শ্রেণীর পাঠদান করানো হয়। বহু স্কুলে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত বেঞ্চ এবং টয়লেটের মতো মৌলিক চাহিদার মারাত্মক অভাব রয়েছে।
স¤প্রতি ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যাঙ্গাত্মক সংগঠনের নেতৃত্বে জেন জি তরুণরা দেশব্যাপী প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে বিশাল আন্দোলন গড়ে তোলে। আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। সেই আন্দোলনের রেশ ধরেই সিজেপি শুরু করেছে ‘স্কুল ঠিক করো' অভিযান, যা এই জেন আলফা শিক্ষার্থীদের আরও বেশি উৎসাহিত করেছে।
শিক্ষা অধিকারকর্মীদের মতে, শিশুদের দাবির মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত শিক্ষক, নিরাপদ ভবন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শৌচাগার ও মানসম্মত শিক্ষা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সমস্যা সমাধানে শুধু বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপ নয়, পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের বেশি ১৮ বছরের কম বয়সী। ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে এদের বড় একটি অংশ ভোটার হতে যাচ্ছে। তাই জেন আলফার এই জেগে ওঠাকে ভারতের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর জন্য একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 
সূত্র: আল জাজিরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ