খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ জানুয়ারী ২০২২ | ১৪ মাঘ ১৪২৮

দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর

বাগেরহাটে আ’লীগের দুইপক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১২:৫০ এ.এম | ১৫ জানুয়ারী ২০২২


বাগেরহাটে আ’লীগের দুইপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতে উপজেলার মুক্ষাইট এবং কোড়ামারা এলাকায় গোটাপাড়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য আসলাম কাজী টুটুল এবং গোটাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সমশের আলীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ১১ জন বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময় ইউপি সদস্য আসলাম কাজী টুটুলের দোকান ও উভয়পক্ষের অন্তত ৮-১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহতরা হলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হাওলাদার (৫৮), মুক্ষাইট এলাকার ইউপি সদস্য আসলাম কাজী টুটুলের বাবা গোটাপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোসলেম কাজী (৫৫), আসলাম শেখের স্ত্রী ফিরোজা বেগম (২৫), সানি মোড়ল (২১), রফিকুল ইসলাম (৫০), মঞ্জুর করিমি (৭০) কোড়ামারা এলাকার জাহাঙ্গীর (৩২), মোঃ মুসা খান (৩৫), কহিনুর বেগম (৪০), চিরুলিয়া এলাকার হাফিজুল শেখ (৩৫), গোটাপাড়া এলাকার রবিউল করিম (৩৮), সাজোখালী এলাকার স্বপন বিশ্বাস (২৩)। অন্য আহতদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
ইউপি সদস্য আসলাম কাজী টুটুল বলেন, আমার বাড়ি মুক্ষাইট। গত বৃহস্পতিবার নেতা-কর্মীদের নিয়ে বাগেরহাট জেলা আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করি। হঠাৎ করে গ্রাম থেকে একটি ফোন আসে আমাদের দোকান আক্রমন করা হবে। কয়েকদিন ধরে পরিকল্পনা চলছে আমাদের দোকানে হামলা করবে। ফোন পেয়ে রওনা দিয়ে গ্রামে পৌঁছানোর আগে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সমশের আলী, পরাজিত সদস্য প্রার্থী গফ্ফার ও তার লোকজন আমাদের দোকান পাট ভাঙচুর করে। সেই সাথে আমার বাবাসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করে তারা। আমার বাবার পকেটে থাকা দোকানের ক্যাশের আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরবর্তীতে আমরা মুক্ষাইটে পৌঁছানোর পরে রাতে আবারও তারা আমাদের উপর হামলা করে। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়।
ইউপি সদস্য আসলাম কাজী টুটুলের অভিযোগ অস্বীকার করে গোটাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সমশের আলী বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল শেষ করে আমরা শুনতে পারি মুকুলের স্ত্রীর উপর হামলা হয়েছে। মুকুলের স্ত্রী কোহিনুর বেগমকে দেখতে আমরা নেতা-কর্মীদের নিয়ে কোড়ামারা এলাকায় যাই। সেখান থেকে ফিরে মুক্ষাইট মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে বসলে, নব্য আ’লীগ জামায়াত-বিএনপি’র সাবেক ক্যাডাররা আমাদের উপর হামলা করে। হামলাকারীরা আমার পালসার মোটরসাইকেলসহ ৮-১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। জীবন বাঁচাতে আমরা দলীয় কার্যালয়ের মধ্যে প্রবেশ করি। তারপরও হামলাকারীরা সাটারের উপর ইটপাটকেল ছোঁড়ে।
নব্য আওয়ামী লীগ বা জামায়াত শিবির কারা এ বিষয়ে জানতে চাইলে কারও নাম উলে­খ না করে চেয়ারম্যান আরও বলেন, তারা সবাই স্থানীয় মুক্ষাইটের বাসিন্দা এবং বিএনপি-জামায়াতের লোক।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের বিষয়ে কোন পক্ষ এখন পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়া ফের সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ