খুলনা | শনিবার | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

নেপালে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৪, সুড়ঙ্গে আটকে কয়েক শ

খবর প্রতিবেদন |
০৪:৪০ পি.এম | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নেপালে প্রলয়ংকরী বন্যায় হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ ও মৃত্যুর খবরের মাঝেই কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নতুন করে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গত কয়েক দিনে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে উদ্ধার হওয়া মোট জীবিত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারজনে।

আজ শনিবার উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা এক চীনা প্রকৌশলী এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের নিচে মাটিচাপা পড়া ৬৪ বছর বয়সী এক নারী।

নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ২২৫ মিটার দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক লুহাইতাওকে উদ্ধার করা হয়। নেপাল সামরিক বাহিনী ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।

সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সারা শরীরে কাদা মাখা অবস্থায় উদ্ধারকারীদের কাঁধে ভর দিয়ে বেরিয়ে আসছেন তিনি। পরে হেলিকপ্টারে করে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, নুয়াকোট শহর থেকে ৬৪ বছর বয়সী চণ্ডিকা শ্রেষ্ঠা নামের এক নারীকে একটি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁকেও জরুরি চিকিৎসার জন্য বিমানে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার একই অঞ্চলের ‘ত্রিশূলি ৩এ’ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়।

দুর্যোগের বেশ কিছু দিন কেটে গেলেও উপদ্রুত এলাকায় নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বিশাল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯০০ কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল বিভিন্ন সুড়ঙ্গের ভেতরেই অন্তত ৫০০ জন আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করছেন উদ্ধারকারীরা।

গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসের কারণে তৈরি হওয়া আকস্মিক প্রলয়ংকরী বন্যায় এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল সরকার। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এখনো ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গগুলোতে জীবিতদের সন্ধানে নেপালি বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, চীন, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞরা দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

লাশের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় এবং পচনের কারণে শনাক্তকরণ কঠিন হয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩০টি মরদেহ গণকবরে সৎকার করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিচয় নিশ্চিত করার সুবিধার্থে সৎকার করার আগে প্রতিটি মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

এদিকে, বাড়িঘর হারিয়ে অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া হাজার হাজার মানুষের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ত্রাণ শিবিরে থাকা যে কতটা কঠিন তা আমরা বুঝি। তবে সরকার আপনাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। আমরা আবারও এমন পরিবেশ তৈরি করব যেখানে আপনারা নতুন করে সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারবেন।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ