খুলনা | মঙ্গলবার | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

মেজর ও কর্নেল পরিচয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ

পিরোজপুরের মামলায় মোংলা থেকে খুলনার প্রতারক পারভেজ গ্রেফতার

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:১৬ এ.এম | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নিজেকে সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পারভেজ ব্যাপারী নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 
সোমবার দুপুরে মোংলা পৌর শহরের বনফুল মিষ্টির দোকান থেকে মোংলা ও কাউখালী থানা পুলিশের একটি যৌথ দল তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত পারভেজ খুলনা মহানগরীর বয়রা ২৩ নম্বর রোডের সাখাওয়াত ব্যাপারীর ছেলে।
মামলা সূত্রে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার পারভেজ ব্যাপারী অত্যন্ত চতুর এবং প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ। সে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাক পরিহিত নিজের ভুয়া ছবি ও নথিপত্র  তৈরি করত। নিখুঁতভাবে তৈরি এসব ভুয়া আইডি কার্ড ও ছবি দেখিয়ে সে নিজেকে কখনো সেনাবাহিনীর কর্নেল, আবার কখনো র‌্যাবের মেজর পরিচয় দিয়ে নারীদের সাথে প্রতারণা করতো। সাধারণ মানুষের পক্ষে তার এই ডিজিটাল জালিয়াতি ধরা অসম্ভব ছিল।
পুলিশের তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার উজিয়ালখা এলাকার এক স্কুলছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে পারভেজ। একপর্যায়ে সে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে ওই স্কুলছাত্রীকে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে হোটেল বা কারো বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় রাত্রিযাপন করে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। স¤প্রতি পারভেজের এই প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম বিপাকে পড়ে। পরবর্তীতে স্কুলছাত্রীর মা নিলুফা বেগম বাদী হয়ে পিরোজপুরের কাউখালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
থানায় মামলা হওয়ার পর থেকেই লম্পট পারভেজ গ্রেপ্তার এড়াতে খুলনা থেকে পালিয়ে মোংলায় এসে আত্মগোপন করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে মোংলা থানা পুলিশের সহায়তায় সোমবার দুপুরে মোংলা শহরের বনফুল মিষ্টির দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে হাতেনাতে আটক করে কাউখালী থানা পুলিশ। দুপুরের পরই তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পিরোজপুরে নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেফতারকৃত পারভেজ প্রযুক্তির অপব্যবহার করে শুধু এই স্কুলছাত্রীই নয় বরং দেশের বহু নারীর সাথে ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা, শারীরিক সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেইল করেছে। যার চাঞ্চল্যকর ডিজিটাল প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পিরোজপুরের কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, পারভেজ মূলত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের সদস্য। সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইউনিফর্ম পরা ভুয়া ছবি এডিট করে মানুষকে বিভ্রান্ত করত। নিজেকে র‌্যাবের মেজর ও সেনাবাহিনীর কর্নেল পরিচয় দিয়ে সে অসহায় স্কুলছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে ভুয়া বিয়ে দেখায় এবং ধর্ষণ করে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও তার ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি করে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বহু নারীর সাথে এমন প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। অপরাধী যেই হোক না কেন, প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা তাকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করছি। আর নিলুফা বেগমের মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। এছাড়া অন্য অভিযোগ প্রমানিত হলে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ