খুলনা | বুধবার | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

খুলনা বিভাগে একদিনে প্রাণ গেলো ৩ জনের

ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৬:০৮ পি.এম | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনা বিভাগে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪২ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৬৬০ জনে এবং মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫ জন। মঙ্গলবার খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ শেখ মোঃ মোশাররফ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ২৪২ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ২০৬ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৩ জনের মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ২ জন এবং বাগেরহাটে ১ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বর্তমানে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৮৭৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। জেলাভিত্তিক চিত্রে খুলনা জেলাতেই আক্রান্তের চাপ সবচেয়ে বেশি, এখানে বর্তমানে ৩৮০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এছাড়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮০ জন, বাগেরহাটে ১০৮ জন এবং যশোরে ৯৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। বাকি জেলাগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভাগে মোট আক্রান্ত ৭ হাজার ৬৬০ জনের মধ্যে ৬ হাজার ৫৭৮ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ১৭৯ জন রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্রে রেফার করা হয়েছে।
বিভাগে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট ২৫ জনের মৃত্যুর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ জনই মারা গেছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া খুলনা জেলার অন্যান্য হাসপাতালে ২ জন, বাগেরহাটে ২ জন এবং যশোরে ১ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে।
কেসিসি ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিকল্প নেই। লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সারাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্ত : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এক দিনের হিসাবে এটি রেকর্ড প্রাণহানি।  এই সময়ে এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ১ হাজার ৫৭১ জন। এত রোগী এর আগে কোনো এক দিনে ভর্তি হননি। এর আগে গত রোববার সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫৮ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। 
গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আগস্ট মাসেই মারা গেছে ৪৩ জন। এ ছাড়া জানুয়ারিতে দুই, ফেব্র“য়ারিতে দুই, মে মাসে এক, জুনে ১৩ ও জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৩৩ জন।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯৬, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৩৪ ও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের বাইরে ৪০৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে বরিশালে ১৪২, চট্টগ্রামে ১৭৭, খুলনায় ২৪২, ময়মনসিংহে ৭৭, রাজশাহীতে ১১৬, রংপুরে ৭১ ও সিলেটে ৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু নিয়ে ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ হাজার ১২৭ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩ হাজার ২১৮ জন।
দেশে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব হয় ২০০০ সালে। এরপর প্রতিবছর এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যেত। তবে ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। এরপর  ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। সে বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয়। এর আগের ২৩ বছরে ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু এবং এত রোগী হয়নি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ