খুলনা | বুধবার | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার থেকে তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা

মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন খুলনার ট্যাংকলরী মালিক-ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:০৩ এ.এম | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, পতিত আওয়ামী স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন খুলনা বিভাগীয় শাখা। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতার আশীর্বাদে বিনাভোটে গঠিত এই অবৈধ কমিটি দিয়ে এখনো একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে চলছে একটি স্বার্থন্বেষী গোষ্ঠী। ব্যক্তিগত অনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং অবৈধ সুবিধা আদায় না হলেই কথায় কথায় রাষ্ট্রীয় তেল ডিপোর তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ করে পুরো খুলনা বিভাগসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই কমিটির বিরুদ্ধে।
গতকাল সোমবার জরুরি নোটিশে বৃহস্পতিবার থেকে খুলনার আঞ্চলিক অফিসের অফিসার (সেলস) মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীকে অপসারণ না করা পর্যন্ত তেল উত্তোলন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরী মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদ। সরকারকে জনগনের মুখোমুখি করতেই এধরণের কর্মসূচি বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ মেয়াদের ওই বিতর্কিত কমিটি গঠনের সময়ে কোনো ধরনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি (ইসি) গঠন করা হয়নি। কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বা ভোটাভুটির তোয়াক্কা না করে একটি নামকাওয়াস্তে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ দেখিয়ে বর্তমান কমিটির সভাপতি নিজেই নিজের কমিটির অনুমোদন দেন। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে মেয়াদ পার হয়ে গেলেও অবৈধভাবে গদি আঁকড়ে বসে রয়েছে চক্রটি।
সর্বশেষ, গত ২ সেপ্টেম্বর খুলনায় যমুনা অয়েল কোম্পানির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা যমুনা তেল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ রাখে এই মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি। 
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই কর্মকর্তা সমিতির নেতাদের কোনো অসৎ ও অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানানোতেই কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়। এমনকি তাঁকে প্রত্যাহারের দাবিতে এক সপ্তাহের আল্টিমেটামও জারি করে এসোসিয়েশন। 
সাধারণ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা অসাধু স্বার্থে আঘাত লাগলেই ডিপো কেন্দ্রিক কৃত্রিম আন্দোলন গড়ে তুলে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করা এই চক্রের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
জ্বালানি ব্যবসায়ী ও ট্যাংকলরী ইউনিয়নের নেতা শহিদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ফ্যাসিস্টদের দোসর ও মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির নেতারা নিজেদের ব্যক্তি স্বার্থে যখন যা ইচ্ছে তাই করছেন। এই অনির্বাচিত কমিটির অনেকেই মূলতঃ প্রকৃত ব্যবসায়ীই নন। বিগত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপবের পর খুলনার প্রায় সব সংস্থাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও ট্যাংকলরী ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম বিপদে আছেন।
জ্বালানি ব্যবসায়ী ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য শেখ ইফতিয়ার বলেন, মেয়াদউত্তীর্ণ এই এ্যাসোসিয়েশন খামখেয়ালীভাবে হঠাৎ হঠাৎ ধর্মঘট ডাকার কারণে আমাদের মতো সাধারণ শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের চরম হয়রানির শিকার হতে হয়। এতে প্রতিদিন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এই স্বেচ্ছাচারিতার অবিলম্বে স্থায়ী অবসান দরকার।
অপর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ফয়সাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক লরী ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনে বর্তমানে কোনো আইন-কানুন বা গঠনতন্ত্রের চর্চা নেই। এর অধিকাংশ সদস্যই বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর। অনতি বিলম্বে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক কমিটি গঠনের দাবি জানাচ্ছি।
সার্বিক বিষয়ে ট্যাংক লরী ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনের ২০২৪-২৫ মেয়াদের সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল কবির কাবুল বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি হয়েছিল বলেই সভার সভাপতি হিসেবে তিনি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এটি গঠনতন্ত্র মোতাবেক হয়েছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে পুনরায় ‘সমঝোতার’ অজুহাত দেন। এক পরিবারের (শেখ পরিবার) আশীর্বাদে ৩১ সদস্যের কমিটি গঠন এবং তোষামোদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন তবে স্বীকার করেন, ব্যবসায়ীদের সব সময় ক্ষমতাসীন দলের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলতে হয়। নির্বাচন দেওয়ার সময়সূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাধারণ সদস্যরা যখনই চাইবে তখনই নির্বাচন দেওয়া হবে।
খুলনার সচেতন মহল ও সাধারণ লরী মালিকদের দাবি, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি খাতের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় অরাজকতা সৃষ্টি করা এই ফ্যাসিস্ট চক্রকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। মেয়াদউত্তীর্ণ ও অবৈধ এই কমিটিকে অবিলম্বে বিলুপ্ত করে খুলনা বিভাগীয় ট্যাংক লরী ওনার্স এ্যাসোসিয়েশনকে একচ্ছত্র সিন্ডিকেট ও বিতর্কিত গোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ