খুলনা | বুধবার | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মতো বিশ্বাসযোগ্য স্থানীয় নির্বাচন করতে চাই: সিইসি

খবর প্রতিবেদন |
০২:২৫ পি.এম | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‎ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন।

আজ বুধবার রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামের সামনে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ সব কথা বলেন।

নির্বাচনী দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সকালে শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুরে। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন বলেন, টু এনসিওর এ ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল ইলেকশন। আমরা থার্টিনথ ন্যাশনাল ইলেকশন যেভাবে করেছি, যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে অন্তত একইভাবে যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা করতে পারি—ক্রেডিটবল একটা এক্সেপ্টেবল ইলেকশন যাতে আমরা করতে পারি, এ জন্য পুলিশের সহায়তা চেয়েছি।

তিনি বলেন, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা যাতে তাঁরা একই মাপকাঠিতে করতে পারেন, একই গুণসম্পন্ন যাতে করতে পারেন—সে চেষ্টা তারা করবেন, তারা আমার কাছে ওয়াদা করেছেন।

সিইসি বলেন, এ জন্য নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত নির্বাচনী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) অনুরোধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আইজিপির উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘যেসব পুলিশ কর্মকর্তা নির্বাচন-সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত হবেন, অথচ আগে ইলেকশন ফোকাসড ট্রেনিং বা নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রশিক্ষণ করেননি, তাদের যত দ্রুত সম্ভব প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের আইজিপি মহোদয় প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করেছেন। আজকেই সেটার উদ্বোধন অনুষ্ঠান।’

অনুষ্ঠানে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশকে যারা কমান্ড করেন, পরিচালনা করেন এবং মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেন—অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সবাইকে একসঙ্গে পাওয়ার ব্যবস্থা করায় আইজিপিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সচিবের অনুষ্ঠানে আসার কথা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ অন্য দায়িত্বে আটকে যাওয়ায় তিনি আসতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘এতে বোঝা যায় যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অঙ্গীকার, নির্বাচন কমিশনের অঙ্গীকার এবং আমাদের সামগ্রিক অঙ্গীকার—সবই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে অন্তত স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে আমরা পুলিশের সহায়তা চেয়েছি।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং আইজিপির উদ্যোগে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরুকে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসেছেন এবং আইজিপি মহোদয় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছেন। এতে মন্ত্রণালয়ের নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার যে দায়িত্ব রয়েছে, সেটারই একটি প্রমাণ পাওয়া যায়।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনকে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করাও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার সামগ্রিক। নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের সময় কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না—এটা আমি একদম নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারি। আমরা তাদের কোনো বেআইনি কাজের নির্দেশনা দেব না। তারাও ওয়াদা করেছেন যে একটি সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করার জন্য তারা কাজ করবেন।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়েছে বলেও দাবি করেন এই কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি কাজের মাপকাঠি হচ্ছে ফলাফল। আমি কী কাজ করলাম, কতটা ভালো বা খারাপ করলাম—সেটা প্রমাণ হবে ফলাফলের মাধ্যমে। আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি যে আমরা পারি।’

সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের যে আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তা অনেকটাই পুনরুদ্ধার হয়েছে। একইভাবে বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, সেটিও পুনরুদ্ধার হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে পারে—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তারা তা প্রমাণ করেছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একই মানদণ্ড ও একই গুণগত মানে আয়োজনের চেষ্টা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে তাঁর কাছে অঙ্গীকার করেছেন।

তবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশকে কিছু সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে যানবাহনের সংকট অন্যতম। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের অনেক গাড়ি পুড়ে গেছে, যার সবগুলোর এখনো প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে। পুলিশের নিজস্ব প্রশিক্ষণ তহবিল থেকে এই অর্থ ব্যয় করা কঠিন হওয়ায় তারা কিছু অর্থ বরাদ্দ চেয়েছে।

পুলিশের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার সদস্যদেরও নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ শুরু হবে বলে জানান তিনি। দ্রুত এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করার জন্য তাদেরও অনুরোধ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে আপনারা যেভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন, একই রকম সহযোগিতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আপনাদের কাছ থেকে প্রয়োজন। সবাই মিলে ইনশা আল্লাহ আমরা জাতিকে একটি সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দিতে পারব—এটাই আমি প্রত্যাশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ইনশা আল্লাহ এটা করতে পারব। সবার সহযোগিতা নিয়েই আমরা এটা করব। আমাদের অঙ্গীকারের মধ্যে কোনো গলদ নেই। আজকে প্রশিক্ষণের যাত্রা শুরু হলো। পরবর্তীতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণ শুরু হলে আপনারা সেখানেও আমন্ত্রণ পাবেন। আপনাদের সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ