খুলনা | বুধবার | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

পরকীয়ার জেরে নবজাতকসহ তিনজনকে খুন, গ্রেপ্তার ১

খবর প্রতিবেদন |
০৫:১৫ পি.এম | ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাভারের আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে নারী, পুরুষ ও নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার তিন দিনের মধ্যে মামলার রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

উত্তরায় ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার (এসপি) এম এন মোর্শেদ।

এর আগে গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি ফরিদপুরের নগরকান্দা থানাধীন চাঁদহাট গ্রামের জব্বার মাতুব্বরের ছেলে। বর্তমানে তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুরে থাকতেন।

এসপি এম এন মোর্শেদ বলেন, গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় অর্ধগলিত এক পুরুষ, এক নারী ও এক নবজাতক শিশুর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য সেগুলো হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতদের মধ্যে ছিলেন আলমগীর কবির (৪৫), তার স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং নাজমার সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতক সন্তান। এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর পিবিআই ঢাকা জেলা গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ভিকটিম নাজমার ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও ব্যবহৃত হাতব্যাগ উদ্ধার করা হয়।

এসপি মোর্শেদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

তদন্ত ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে মোর্শেদ জানান, নাজমার সঙ্গে হৃদয়ের দীর্ঘদিনের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নাজমার স্বামী আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর হৃদয়ের ভাড়া বাসায় গেলে তাদের মধ্যে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে হৃদয়ের সঙ্গে আলমগীরের ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি শুরু হয়। নাজমা বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে নাজমার পেটে আঘাত করা হলে তিনি ও তার গর্ভের সন্তান মারা যান। এরপর আলমগীরকে মারধর করে হত্যা করা হয় বলেও জানান তিনি।

এসপি মোর্শেদ বলেন, হত্যার পর মরদেহগুলো কক্ষের খাটের ওপর রেখে হৃদয় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি নাজমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও হাতব্যাগ নিয়ে যান। পরে পিবিআই এসব আলামত উদ্ধার করে।

পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার হৃদয়কে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ