খুলনা | শুক্রবার | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত হয়নি, প্রস্তাব পেলে পরীক্ষা করবে বাংলাদেশ

খবর প্রতিবেদন |
১১:৪১ পি.এম | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বন্ধ থাকা বাংলাদেশ-ভারত আন্তদেশীয় ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়ে ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা পরীক্ষা করে দেখবে বাংলাদেশ। গত তিন দিন ধরে অনুষ্ঠিত ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিংয়ে (আইজিআরএম) ভারতীয় পক্ষ থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পুনরায় চালানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার রেল ভবনে তিন দিনব্যাপী আইজিআরএম বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক।

জিয়াউল হক বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে এসব ট্রেন বন্ধ করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষই এগুলো বন্ধ করেছে। ফলে চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, ভারতীয় পক্ষ এ বিষয়ে বৈঠকে অ্যাজেন্ডা দিয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব আকারে এলে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। কারণ, পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন চলেনি। নতুন রুটে ট্রেন চালাতে কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

জিয়াউল হক জানান, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন পরিচালনায় ভারত বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা পাবে। বৈঠকে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দর-কষাকষি চলছে। তিনি আরও বলেন, নতুন রুটে ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেন ঘোরানোর ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন সুবিধা ও কমলাপুর রেলস্টেশনের সক্ষমতার বিষয়গুলোও পরীক্ষা করতে হবে। কমলাপুরে বর্তমানে দেশীয় ট্রেন পরিচালনাতেই চাপ রয়েছে। ফলে আন্তদেশীয় ট্রেনের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও জায়গা নিশ্চিত করাও একটি কারিগরি বিষয়।

বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলেন, এবারের বৈঠকে এ দুটি ট্রেন নিয়ে কোনো অ্যাজেন্ডা ছিল না। ভারতীয় পক্ষ থেকেও ছিল না, বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ছিল না। তবে আগের বৈঠকে এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জিয়াউল হক বলেন, আগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রী চাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দিতে হবে। কিন্তু এবারের বৈঠক পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো বিষয় পাওয়া যায়নি। বৈঠকে বিষয়টি তাদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কি না, জানতে চাইলে জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের রেলওয়ের সম্পর্ক খারাপ ছিল না, এখনো ভালো আছে। এবারের বৈঠকে দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনে হয়েছে। গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, এবারের বৈঠকে বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পর্যায়ে যেসব বিষয় সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হবে।

বৈঠক শেষে ভারতীয় পক্ষও আলোচনাকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেছে। মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়টি কারিগরি ও পরিচালনাগত দিক থেকে মূল্যায়ন করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ