খুলনা | শনিবার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

পদের অপব্যবহার, আর্থিক দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ

অর্থাভাব, আস্থাহীনতার কথা জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন হাসিনার কন্যা সায়মা কী অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে?

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৮ এ.এম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ওয়ার্ল্ড হেল্থ অর্গানাইজেশন (সংক্ষেপে ‘হু’)-এর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তা ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে পদের অপব্যবহার, আর্থিক দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সমস্ত অভিযোগই অবশ্য অস্বীকার করেছিলেন হাসিনা-কন্যা।
২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির ভোটে হু-র ওই শীর্ষস্তরের পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন সায়মা। ২০২৪ সালের ফেব্র“য়ারিতে পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে দক্ষিপূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তার পদে নিযুক্ত করে হু। ওই বছরেরই আগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সায়মার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করে তৎকালীন অন্তর্বতী সরকার। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বতী সরকারের আমলে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হাসিনা-কন্যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। তার পরেই ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সায়মাকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠিয়ে দিয়েছিল হু। পদত্যাগ করার আগে পর্যন্ত বেতনহীন ছুটিতেই ছিলেন হাসিনার কন্যা।
সংবাদসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, চিন সফরে গিয়ে হাসিনা-কন্যা আর্থিক দুর্নীতি করেছিলেন বলে অভিযোগ তোলে হু। তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে গত ৩ জুলাই হু-কে একটি চিঠি দেন সায়মার আইনজীবীরা। এর পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে অভিযোগ তোলা হয় যে, বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধ ভাবে দখল করেছেন হাসিনা-কন্যা। পদত্যাগপত্রে সেই অভিযোগও খারিজ করে সায়মার দাবি, হু-র পদে বসার আগেই ওই জমিটি অধিগ্রহণ করেছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, হাসিনার পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনের আওতায় ওই জমির স্বত্ব পান তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার হু-র প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাসের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন সায়মা। পদত্যাগপত্রে গেব্রিয়েসাসের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানান হাসিনা-কন্যা। নিজের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। সায়মা লেখেন, “যেহেতু আপনি দায়িত্ব পালনে আমায় বিরত করে চলেছেন, সেহেতু আমি হু-তে আপনার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি।” একই সঙ্গে সায়মা লেখেন, “প্রায় এক বছর আপনার নির্দেশে আমি বেতন বা সাম্মানিক ছাড়াই ছুটিতে রয়েছি। আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আমি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” নিজের দায়িত্ব তিনি আন্তরিক ভাবেই পালন করেছেন বলে জানান হাসিনা-কন্যা।
দু’টি সূত্র উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, হাসিনা-কন্যাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বরখাস্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। একটি সূত্রের দাবি, ১২ অক্টোবর সায়মার পদে নিয়োগের জন্য মনোনয়ন আহŸান করত হু। ডিসেম্বরে মনোনয়ন যাচাইয়ের পর ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন করানোর পরিকল্পনা ছিল বলেও দাবি ওই সূত্রের। প্রসঙ্গত, হু-র আঞ্চলিক অধিকর্তার পদটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই পদে আসীন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা এবং হু-র তরফে রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়ে থাকেন। সদস্য রাষ্ট্রগুলির ভোটে এই অধিকর্তারা পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। যেমন নির্বাচিত হয়েছিলেন হাসিনা-কন্যাও। 
সূত্র : আনন্দবাজার ডট কম।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ