খুলনা | শুক্রবার | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

আগামী বছর থেকে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং : ববি হাজ্জাজ

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩১ এ.এম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আগামী বছর থেকে দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং (মিড ডে মিল) কর্মসূচি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি শুধু শিশুদের পুষ্টি সহায়তার জন্য নয়, একই সঙ্গে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রতিটি শিশুর প্রাপ্য খাবার যথাযথ মান ও পরিমাণে পৌঁছে দেওয়া এবং কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি থাকবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার পিটিআইয়ে ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা আয়োজিত ‘জবাবদিহিতা, কার্যকর বিদ্যালয় নেতৃত্ব, দলগত সমন্বয় ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি শিশুর কাছে খাবার পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় নজরদারি করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির সুযোগ না থাকে।
প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু স্কুলে শিশুদের উপস্থিতি চাই না, আমরা চাই প্রতিটি শিশু স্কুলে এসে শিখুক। একটি শিশুও যদি বিদ্যালয়ে গিয়ে না শেখে, তাহলে আমাদের সাফল্যের গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
তিনি বলেন, এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষার হিসাব হবে কতটি ভবন তৈরি হয়েছে তা দিয়ে নয়, কতটি শিশুর শেখা নিশ্চিত হয়েছে তা দিয়ে। কারণ ভবন একটি প্রজন্ম তৈরি করে না। একজন দক্ষ শিক্ষক, একটি কার্যকর শ্রেণিকক্ষ এবং একটি জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোনোভাবেই জবাবদিহিতার বাইরে রাখা হবে না উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করা গেলে দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম আরও আনন্দময়, বৈচিত্র্যময় ও বাস্তবভিত্তিক করতে ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’ নামে দু’টি নতুন বই যুক্ত করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব বইয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করবে। পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। এতে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।
প্রাথমিক শিক্ষক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাক্রমে সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা ও প্রশাসনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব নীতিমালায় সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতি, বদলি, বেতন-স্কেলসহ চাকরিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও সুসংহত হবে।
ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আজমুল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী, পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মাহবুবা আইরিন এবং ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) মোঃ আবদুল আজিজ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ