খুলনা | শুক্রবার | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

এপিবিএনকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দিয়ে বিল পাস

সংসদ প্রতিবেদক |
০১:৩৬ এ.এম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের পাশাপাশি তল্লাশি, আলামত জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দিয়ে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদে কণ্ঠ ভোটে বিলটি পাস হয়। 
বিল উত্থাপনের সময় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক, সাইবার অপরাধ গুমের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নিতে বিলটি পাস করা হয়েছে। নতুন আইনে এপিবিএনের দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অপরাধ তদন্ত, কোনো স্থানে প্রবেশ ও তল্লাশি, অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত বা সম্পত্তি জব্দ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ক্ষমতা থাকবে বাহিনীটির।
ছাড়া সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ তদন্ত ও দমনে এপিবিএনের ভূমিকা আরও বিস্তৃত করার বিধান রাখা হয়েছে। এ জন্য বাহিনীর কাঠামোর মধ্যে সাইবার সেল গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, আদালত, সরকার অথবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে। তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। তল্লাশি ও জব্দের ক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা কোনো আলামত জব্দ করা হলে তা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট থানা হেফাজতে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
অপরাধ তদন্তের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিটে হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে। এতে তদন্ত ও অপরাধ দমন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাহিনীটির নিজস্ব সক্ষমতা বাড়বে।
নতুন আইনে এপিবিএনের সাংগঠনিক কাঠামো, দায়িত্ব, কার্যাবলি, ক্ষমতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বিষয়গুলোও নির্ধারণ করা হয়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের ধরন ও জননিরাপত্তার চাহিদায় পরিবর্তন আসায় বিদ্যমান আইনি কাঠামো যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই নতুন আইনটি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য এর আগে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স-১৯৭৯’ অনুযায়ী এ বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হতো। নতুন আইন কার্যকর হলে ওই অধ্যাদেশ রহিত হবে। এপিবিএন প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও ব্যক্তির নিরাপত্তা, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমনসহ বিশেষায়িত নিরাপত্তা কার্যক্রমে বাহিনীটি দায়িত্ব পালন করে আসছে। নতুন আইনের মাধ্যমে তাদের তদন্ত ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতা আরও সুস্পষ্ট করা হলো।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ