খুলনা | শুক্রবার | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্তে বিএসএফের পুশইন-চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা। |
০৭:১৬ পি.এম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী  সীমান্তের বাঁশঝাড়িয়া এলাকা  দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা প্রতিহত করে দিয়েছে বিজিবি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রচন্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা অত্যন্ত সফলভাবে বিএসএফের এই অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে প্রচন্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে বিজিবির নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ খুরমী বিওপি থেকে দক্ষিণ দিকে আনুমানিক ৩.৫ কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর মধ্যস্থ চর এলাকায় (ছোট) বাঁশঝাড়িয়া মিনি ফরেস্ট নামক স্থানে ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১টি কান্ট্রি বোট ও ১টি স্পিড বোটযোগে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে।

বিষয়টি খুরমী বিওপির টহলদলের নজরে আসলে প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্পিড বোটযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ সদস্যরা উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়।

একপর্যায়ে বেলা ১১ টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা উক্ত ১০-১২ জন ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিজিবির তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় অবস্থানের ফলে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধ পুশ-ইনের চেষ্টা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার নীলডুমুরস্থ বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে  বলেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশ-ইনের অপচেষ্টা ১৭ বিজিবি কর্তৃক কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পুশ-ইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৭ বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ