খুলনা | শনিবার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় হামলা

সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসী জিয়া ও তার সহযোগিদের গ্রেফতারের দাবিতে এলাকাবসীর মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৪৬ পি.এম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমান জিয়াসহ তার বাহিনীর সদস্যদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমএ হাসানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, দহাকুলা বায়তুর মামুর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফজলে রাব্বী, মোঃ আজমল হোসেন, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা ল কলেজ স্টুডেন্ট ফোরামের সেক্রেটারি মোঃ আবুল হাসান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোঃ ইনছাপ আলী, ব্রহ্মরাজপুর ইউপির সাবেক সদস্য মোঃ হাতেম আলী প্রমুখ। 
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দহাকুলা গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জিয়া, তার দুই ছেলে ফাহিম ও নাঈম, হাফিজুল ও ফারুকসহ বেশ কয়েকজন মাদক সেবী এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের বিকিকিনি করে থাকে। তাদের কারণে এলাকার উঠতি বয়সের যুবকরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে জিয়া মাদক সেবন ও মাদক বিক্রিসহ এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। যেকারণে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহস পায় না। 
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ব্রহ্মরাজপুর বাজারে প্রকাশ্য মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকালে জিয়াউর রহমান জিয়া, তার দুই ছেলে ফাহিম ও নাঈম, হাফিজুল, ফারুক এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনী ধারালো অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলাকার নিরীহ নাগরিক জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদের এর ওপর হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদেরকে রক্তাক্ত জখম করে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদেরকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 
বক্তারা আরো বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে হামলাকারী মাদক ব্যবসায়ী জিয়া ছিল ডাকাত। যৌথবাহিনীর অভিযানকালে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। এঘটনায় দীঘদিন কারাগারে থাকার পর বেরিয়ে এসে সে পুলিশের দালাল বনে যায়। এসময় সে এলাকার অনেক জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়ে হয়রানি ও মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য করে। পরবর্তীতে পট পরিবর্তনের পর সে গিরগিটির মত রং পাল্টিয়ে বিএনপির সমর্থক সেজে জিয়া ফাউন্ডেশন-এর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি সম্পদ ও জিয়া ফাউন্ডেশনের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধভাবে ভোগ করছে। জিয়া ফাউন্ডেশন থেকে সে নিয়মিত ভাতা পায় বলে এলাকায় প্রচার করে বেড়ায়। 
তারা আরো বলেন, জিয়া ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ধুলিহর বাজার এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে অবৈধ চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে সুইপার স¤প্রদায়ের একব্যক্তির স্ত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে নির্যাতন এবং এলাকায় একাধিক নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। 
মানববন্ধনে বক্তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি জিয়াসহ তার সহযোগিদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার না করলে জনগণ রাজপথে নেমে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। তারা দ্রুত জিয়া ও তার সহযোগিদের আইনের আওতায় এনে শান্তির মুখোমুখি করার জোর দাবি জানান। মানববন্ধনে সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শতাধিক জনগণসহ জিয়া ও তার বহিনীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ রাশিদুল ইসলাম।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ