খুলনা | শনিবার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

শ্যামনগরে অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশ সুপারের কাছে বাবা’র লিখিত আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১১:৪৭ পি.এম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৬) পুলিশের সহযোগিতায় উদ্ধার করে ফেরার পথে ফের তুলে নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে ২২ দিন ধরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মেয়েকে উদ্ধারে দিশেহারা বাবা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট নিখোঁজ হওয়ার পর ২২ আগস্ট প্রেমিকের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার শ্রীফলকাঠি গ্রাম থেকে পুলিশ স্কুল ছাত্রী ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। থানা থেকে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৯টার দিকে ফের তাকে অপহরণ করা হয়। এরপর থেকে গত ২২ দিন ধরে কিশোরীকে প্রেমিকের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। 
প্রেমিক আবু সাঈদ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাঠি গ্রামের ব্যবসায়ী নুর ইসলামের ছেলে। ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রী কিশোরীর বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের খোসালখালী গ্রামে। সে ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। 
কিশোরীর স্বজনদের দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে আবু সাঈদ গত ১৯ আগস্ট সকালে খোসালখালী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যায়। পরে তাকে আটকে রাখা হয়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও নিখোঁজ কিশোরীর সন্ধান না পেয়ে ১৯ আগস্ট রাতে তার বাবা শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং-১১৬০) করেন। জিডির ভিত্তিতে তদন্তের পর গত ২২ আগস্ট রাতে অভিযুক্ত আবু সাঈদের কাছ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে রাত ৯টার দিকে তাকে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়। তবে পরিবারের অভিযোগ, মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় আবু সাঈদ ও তার সহযোগিরা পথরোধ করে তাকে আবারও জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। 
কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন, মেয়েকে ফিরিয়ে আনতে সাঈদের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয়বার থানা পুলিশ করলে মেয়েকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে তাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ওই বাবা। 
মেয়েকে উদ্ধারে কোনো উপায় না পেয়ে গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগীর বাবা। আবেদনে কিশোরীকে দ্রুত উদ্ধারের পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আবু সাঈদ বলেন, তিনি কিশোরীকে বিয়ে করে নিজ বাড়িতে সংসার করছেন। তার বাবা নুর ইসলাম বলেন, আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাফিউল ইসলাম বলেন, প্রথমবার খবর পাওয়ার পর পুলিশ কিশোরীকে উদ্ধার করে তার বাবার কাছে হস্তান্তর করেছিল। পরে আবার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে পরিবার বা অন্য কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ