খুলনা | শনিবার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিজিটাল প্রতারণা : কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

|
১১:৫৩ পি.এম | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার বেড়েই চলছে। চাকরির ক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য, এমনকি দৈনন্দিন অনেক কাজই সহজ করে দিয়েছে এআই, একইভাবে সময়ও কমিয়ে দিয়েছে। সংগত কারণেই অনেকে এআইনির্ভর হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে একটি চক্র এই উন্নত প্রযুক্তিকেই বানিয়েছে প্রতারণার হাতিয়ার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের নানা দেশে প্রতারকরা এআই ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে।
প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, কক্সবাজারে অন্তত ৩০০ সদস্যের চীনা প্রতারকচক্র বড় ধরনের ফাঁদ পেতেছিল। তাদের টার্গেটে ছিলেন চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। শুধু তা-ই নয়, চক্রটির নজর বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দিকেও ছিল। স্বস্তির কথা হলো, পুলিশের চৌকস ভূমিকায় ওই চক্রের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। এরই মধ্যে কক্সবাজারে ওই চক্রের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, চীনা চক্রটি কক্সবাজারে হোটেল ভাড়া করে প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল। কক্সবাজারে রিসোর্টে চক্রটি ডিজিটাল আধুনিক ল্যাব স্থাপন করেছিল। তারা সামাজিক মাধ্যমে নানাভাবে আস্থা তৈরির কাজ করছিল। চক্রের পক্ষ থেকে বলা হতো, বিনিয়োগ করলে বিপুল মুনাফা পাওয়া যাবে। তাদের কথায় আস্থা রেখে বিনিয়োগ করলে একসময় সর্বস্ব নিঃশেষ হয়ে যেত।
জানা গেছে, শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে চক্রটির নেটওয়ার্ক। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতারকচক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৯৪ জন চীনা নাগরিকের সন্ধান পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কক্সবাজার পুলিশ চক্রটির আরো অন্তত ২৯৫ জন চীনা নাগরিকের পাসপোর্ট নম্বর সংগ্রহ করেছে। একটি রিসোর্টে আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্রতারকচক্রের ঘাঁটির সন্ধান পেয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযান চালিয়ে অন্তত পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। 
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি আমাদের যেমন সুবিধা দিচ্ছে, অন্য দিক বিবেচনায় নিলে ডিজিটাল দুনিয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। অনেকের একটি বড় সময় কাটে সামাজিক মাধ্যমে। আর প্রতারকরা সেখানেই ওত পেতে থাকে। মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে জিম্মি করার ঘটনা হামেশাই ঘটছে। কিছুদিন আগে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, অ্যাপসের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সা¤প্রতিক সময়ে অনলাইনে জুয়া ব্যাপক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। সাইবার অপরাধীদের একটি বড় অংশ অনলাইন প্রতারণায় সক্রিয়। জানা গেছে, জুয়ার ওয়েবসাইটগুলোর ‘এমএফএস’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। এর বেশির ভাগ অর্থ আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয়ে যায়।
এটি ঠিক যে আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা কম। পাসওয়ার্ড, পিন কোডের মতো সাধারণ বিষয়েও সুরক্ষাজ্ঞানও অনেকের নেই। এই সুযোগও নিয়ে থাকে প্রতারকচক্র। কাজেই ডিজিটাল প্রতারণা রোধে আইনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
আমরা মনে করি, কক্সবাজারে যে চীনা চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই চক্রের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত, সেসবের আদ্যোপ্রান্ত বের করতে হবে। একই সঙ্গে দেশে ডিজিটাল প্রতারকদের চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য পুলিশের সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ