খুলনা | শনিবার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

১৪ কোটিতে সিম্ফনি

খবর প্রতিবেদন |
১২:২৪ এ.এম | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মোবাইল ফোন কখনো কখনো শুধু একটি ডিভাইস নয়। কারো কাছে এটি দূরের প্রিয়জনের কণ্ঠস্বর শোনার একমাত্র উপায়, কারো কাছে জীবনের সবচেয়ে দামি মুহূর্তগুলোর নীরব সাক্ষী, আবার কারো কাছে ছোট্ট এক স্বপ্নপূরণের হাতিয়ার। ১৯৮৩ সালে মোবাইল ফোনের আবিষ্কারের পর থেকে বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে মোবাইল ফোন হয়ে ওঠে মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার আরেক নাম। এই সময়ে বাংলাদেশে নোকিয়া, স্যামসাং, সিমেন্স, মোটোরোলা, জেড টি ই, এ্যালকাটেল, সনি এরিকসনের মতো গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পাশাপাশি কিছু নন-ব্র্যান্ডেড চাইনিজ ফোনও বাজারে পাওয়া যেত। তখন মূলত ফিচার ফোনেরই কদর বেশি ছিল।
২০০৮ সালে New Experience ট্যাগ নিয়ে সম্পূর্ণ বাংলাদেশি মালিকানাধীন ব্র্যান্ড Symphony মোবাইলের যাত্রা শুরু হয়। এর পরের বছর, ২০০৯ সালে, এই যাত্রারই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় এডিসন গ্র“প, যে গ্র“পের পতাকাতলে আজ সিম্ফনি মোবাইল একটি অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে চলেছে। এই পথচলা শুরু হয়েছিল একটি সাধারণ ভাবনা থেকে, মানুষের সাধ্যের মধ্যে থেকে তার প্রয়োজন মেটানো। বছরের পর বছর প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের চাহিদা বদলেছে, বদলেছে ফোন ব্যবহারের ধরনও। তবু একটা জায়গায় সিম্ফনি অনড় থেকেছে, প্রযুক্তি যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে না যায়।
যাত্রার শুরু থেকেই Symphony মোবাইল স্বল্প দামের ভেতরে নিত্যনতুন ফিচার আর ইনোভেটিভ ডিজাইনের হ্যান্ডসেট বাজারজাত করা শুরু করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের ফোন কিনতে তখন মানুষকে ৭ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ করতে হতো, যা নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য ছিল প্রায় বিলাসিতার সমান। Symphony মোবাইল এই ধরনের ফোন মাত্র ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে বাজারে নিয়ে আসে, আর ফিচার ফোনের দাম একেবারে সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে চলে আসে।
Symphony মোবাইলের হাত ধরেই বাংলাদেশের মানুষ প্রথম Keypad, Touch Phone, PDA Phone  Android  ফোন চালানোর স্বাদ পায়। ২০১২ সালে সিম্ফনি বাংলাদেশি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন স্বল্প মূল্যে দেশের মানুষের হাতে তুলে দেয়। এই দীর্ঘ পথে জমা হয়েছে কোটি কোটি মানুষের নিজস্ব গল্প। কারো জীবনের প্রথম মোবাইল ফোনটাই ছিল সিম্ফনি, কারো কাছে এটি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে সহজ সেতু, কারো ব্যবসা বা কর্মজীবনের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। তাই সিম্ফনির কাছে একজন গ্রাহক মানে শুধু একটি সংখ্যা নয়, একটি করে জীবনের গল্প।
১৬ বছরের এই গল্পে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়-"সিম্ফনি মোবাইল এখন ১৪ কোটি মানুষের পরিবার"। সংখ্যাটা শুনতে বিশাল মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কিছু, ১৪ কোটি মানুষের ভরসা, অসংখ্য পরিবারের স্মৃতি, প্রতিদিনের ছোট-বড় কথোপকথন, আর অগণিত স্বপ্নের ভাগীদার হওয়ার অভিজ্ঞতা।
এই বিশেষ মুহূর্তকে আরও রঙিন করে তুলেছেন তিনজন মানুষ। ফরিদপুরের রুবেল হোসেন হয়েছেন সিম্ফনির ১৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৮তম গ্রাহক। তাঁর ঠিক পরেই, ১৩ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৯তম গ্রাহক হিসেবে হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের নাদিয়া আক্তার। আর তারপরই আসে সেই কাক্সিক্ষত মুহূর্ত, ময়মনসিংহের মাফিজা খাতুন গর্বের সঙ্গে হয়ে ওঠেন সিম্ফনির ১৪ কোটিতম গ্রাহক।
মাত্র কয়েকটি সংখ্যার ব্যবধান, কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এই তিনজনের নাম এখন একসঙ্গে লেখা থাকবে। রুবেল, নাদিয়া আর মাফিজা তিনজনই আজ সিম্ফনির কোটি কোটি গ্রাহকের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের অভ্যর্থনা তাই শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সিম্ফনির এই ১৪ কোটি গ্রাহকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি প্রতীক।
এডিসন গ্র“পের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিম্ফনি মোবাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাকারিয়া শাহিদ বলেন, এই অর্জনের পেছনের আসল শক্তি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা আর আস্থা। ভবিষ্যতেও গ্রাহকের প্রয়োজন আর নতুন প্রযুক্তিকে কেন্দ্রে রেখেই সিম্ফনি ও এডিসন গ্র“প একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চায় বলে জানান তিনি।
১৪ কোটি গ্রাহকের এই মাইলফলকই শেষ নয়, বরং আরেকটি বড় যাত্রার শুরু। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে দ্রুতগতির সংযোগ-প্রযুক্তির জগৎ পাল্টাচ্ছে প্রতিনিয়ত, আর সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও আধুনিক, প্রয়োজনভিত্তিক ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নিয়ে আসাই এডিসন গ্র“প ও সিম্ফনি মোবাইলের আগামী দিনের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে থাকবেন অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব, যাঁর নাটক দেখে বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবার সন্ধ্যা কাটায়। তাঁর আসাটা তাই গ্রেফ একজন তারকা-উপস্থিতি নয়—সিম্ফনির গল্পটাও তো শেষমেশ সেই একই মানুষের, একই পরিবারের।
একটি ব্র্যান্ড তখনই সত্যিকারের সফল হয়, যখন মানুষ তাকে আর কেবল একটি পণ্য মনে করে না, বরং নিজের জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়। ফরিদপুরের রুবেল হোসেন, নারায়ণগঞ্জের নাদিয়া আক্তার আর ময়মনসিংহের মাফিজা খাতুন—তিনজনই আজ প্রতিনিধিত্ব করছেন সেই কোটি কোটি মানুষের, যাঁদের আস্থা আর ভালোবাসায় গড়ে উঠেছে সিম্ফনি ও এডিসন গ্র“পের এই দীর্ঘ পথচলা।
১৪ কোটি শুনতে একটি সংখ্যা মাত্র। কিন্তু এর পেছনে আছে ১৪ কোটি গল্প, ১৪ কোটি মানুষের আস্থা, ১৪ কোটি পরিবারের ভালোবাসা।
সেই ভালোবাসাকে সঙ্গী করেই এডিসন গ্র“পের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান সিম্ফনি মোবাইল এগিয়ে যেতে চায় আগামীর পথে-নতুন প্রযুক্তি, নতুন স্বপ্ন আর বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আরও গভীর এক সম্পর্কের প্রতিশ্র“তি নিয়ে।
১৪ কোটি গ্রাহক-এটি শুধু সিম্ফনির অর্জন নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার একটি স্মারক এবং এডিসন গ্র“পের পথচলারও একটি গৌরবময় অধ্যায়। সেই ভালোবাসার প্রতি সিম্ফনি মোবাইল ও এডিসন গ্র“পের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। খবর বিজ্ঞপ্তি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ