খুলনা | শনিবার | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলন

শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, প্রত্যেক ব্যক্তিরও বিজয় নিশ্চিত করতে হবে : এ টি এম আজহারুল

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:২৮ এ.এম | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, প্রত্যেক ব্যক্তিরও বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। দলের বিজয় হতে পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন, আর ব্যক্তির বিজয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ। তাই রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের আমল ও আখিরাতের সফলতার জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মুসলমানদের সঙ্গে কুরআনের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে গেছে। শুধু মুখে ইসলামের কথা বললে হবে না, জীবনে তার বাস্তব প্রয়োগ থাকতে হবে। মাওলানা মওদুদীর ‘সত্যের সাক্ষ্য’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মৌখিক সাক্ষ্যের পাশাপাশি বাস্তব সাক্ষ্য দিতে হবে। মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকতে হবে। মুসলমানদের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংখ্যায় বিপুল হলেও মুসলমানরা বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০০ কোটি মুসলমানের বিপরীতে ইসরায়েলি ইহুদিদের সংখ্যা উল্লেখ করে দাবি করেন, অল্পসংখ্যক হয়েও তারা বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। তাঁর মতে, এর অন্যতম কারণ মুসলমানদের মধ্যে ঈমানের শক্তি ও বাস্তব চেতনার ঘাটতি। 
শুক্রবার সকালে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে মহানগরীর রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। 
জামায়াতে ইসলামীর মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোঃ ইজ্জত উল্লাহ এমপি ও সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি। সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসান। এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল টিম সদস্য মাস্টার শফিকুল আলম, মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, এড. শাহ আলম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আল,আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, মীম মিরাজ হোসাইন, ড. আবু রুবাবা, মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মুকারম বিল্লাহ, মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, সেক্রেটারি অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, মাওলানা শাহারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, এড. শফিকুল ইসলাম লিটন, সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহীদুল ইসলাম, খালিশপুর থানা আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতপুর থানা আমীর মুশাররফ আনসারী, আড়ংঘাটা থানা আমীর মনোয়ার আনসারী, ব্যবসায়ী থানা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, হাফেজ ইমরান খালিদ, খুলনা সদর থানা সেক্রেটারি আব্দুস সালাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খালিশপুর থানা আব্দুল আউয়াল, দৌলতপুর থানা মাওলানা মহিউদ্দীন, আড়ংঘাটা থানা সেক্রেটারি শেখ ফিরোজ আহমেদ তুহিন, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হেফজুর রহমান প্রমুখ ।
জামায়াতের নায়েবে আমীর আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন মানুষ এখন দুনিয়াবি সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। কে বেশি বাড়ি করবে, কে বেশি সম্পদের মালিক হবে এসব নিয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে। অথচ ইসলামে দুনিয়ার সম্পদ অর্জন নিষিদ্ধ নয়। সম্পদ থাকলেই যাকাত ও দান-সদকা করা সম্ভব। তবে সম্পদ অর্জনের জন্য যেকোনো পথ বেছে নেওয়া যাবে না। প্রতিযোগিতা করতে হবে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্য।
এ টি এম আজহার বলেন, দলের বিজয় মানেই ব্যক্তির বিজয় নয়। কোনো ব্যক্তি অন্যায়ভাবে ভোট চুরি বা অনৈতিক পদ্ধতিতে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনলেও তাতে তার ব্যক্তিগত মুক্তি হবে না। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন চোর ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা চুরি করে গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেও তার চুরি বৈধ হয়ে যায় না। একই ভাবে দলের জন্য অন্যায় করলে সেই অন্যায়ের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।
জামায়াতে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা। পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মীকে নিজের আখিরাতের সফলতার জন্যও কাজ করতে হবে। কারণ, আল্লাহর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগকে রিফাইন করে নতুন রূপে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, সরকারের ভেতরের কিছু ব্যক্তি ও দিল্লির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল এ প্রক্রিয়ায় ভ‚মিকা রাখছে। তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহজে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক কৃতিত্ব নয়। এটি আল্লাহর রহমত এবং ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফল। দীর্ঘ ১২ থেকে ১৪ বছরের রাজনৈতিক অন্ধকারের পর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, বৈষম্য, দলীয়করণ ও অর্থপাচারমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ