খুলনা | রবিবার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

ভারত থেকে ইলিশ আসছে বাংলাদেশে

খবর প্রতিবেদন |
১১:১০ পি.এম | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কম হওয়ায় ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকে আসছে ইলিশ। গত দুই-তিন মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ আসার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের মাছ ব্যবসায়ীরা গুজরাটের ভারুচ বন্দর এবং হাওড়া পাইকারি মাছবাজার থেকে ইলিশ আনছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসারের কার্যাললয়ের ইনস্পেক্টর আহসাদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আমদানিকারকরা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অন্যান্য মাছের পাশাপাশি ইলিশ আনছেন। তবে, কি পরিমাণ ইলিশ আনা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন ও ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ অবশ্য জানিয়েছেন এরইমধ্যে ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে গেছে।  

তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণত এপার বাংলা থেকে বোয়াল, রুই, পারশে, টেংরা ওপার বাংলায় পাঠাই। তবে এবার ওখানে ইলিশের ঘাটতি থাকায় প্রথমবার এখান থেকে  ইলিশ পাঠানো হলো। বাংলাদেশে ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা বেশি। গুজরাটের ইলিশে ডিম রয়েছে। তাই তা ওখানকার মানুষের পছন্দ।’

হাওড়ার এই মাছ ব্যবসায়ী জানান, ভারতে প্রতি কেজি ইলিশ ৭০০ থেকে ৮০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। জোগান ভালো থাকলে ৩০০ থেকে ৪০০ রুপিতেও বিক্রি হয়। আর বাংলাদেশে পরিবহন খরচ ছাড়া প্রতি কেজি ইলিশ গড়ে ৬০০ রুপিতে  বিক্রি করছেন।

আনোয়ার মাকসুদ বলেন, প্রতিবছর পূজার আগে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে প্রচুর ইলিশ আমদানি হয়। বাংলাদেশ সরকার পূজার উপহার হিসেবেও ইলিশ পাঠায়। এবছরও পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য বিভাগের কাছে ইলিশের জন্য আবেদন করেছেন।

তিনি জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির অনুমতি চেয়ে গত সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ভারতের ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। চিঠিতে স্বল্প সময়ের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে ইলিশ রপ্তানির অনুমতির অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশের একাধিক প্রতিষ্ঠানও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে আবেদন করেছে।

ভারতীয় আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার যে পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দেয়, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম ইলিশ ভারতে পৌঁছায়। ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছরই অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে প্রকৃত রপ্তানির কম। যেমন, গত বছর এক হাজার ২০০ টন অনুমোদনের বিপরীতে রপ্তানি হয় ১৫০ টন। আর ২০২৪ সালে দুই হাজার ৪২০ টন রপ্তানির অনুমোদন থাকলেও ভারতে যায় ৫৭৭ টন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ