খুলনা | রবিবার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

মাদ্রাসায় দুই শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ শিক্ষক গ্রেফতার

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৬ এ.এম | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গাজীপুর মহানগরের গাছা এলাকায় খেলার সময় পায়জামা খুলে যাওয়াকে কে›ত্র করে দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। দুই শিশুকে মারধরের পাশাপাশি উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতার তিনজন হলেন ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থানার চরমুহুরী গ্রামের মাওলানা রইছ উদ্দিন আহাম্মদের ছেলে মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), ত্রিশাল থানার বরমা গ্রামের মোঃ ওয়াদুদের ছেলে মোঃ হাবিবুর রহমান (২৬) এবং শেরপুরের শ্রীবর্দী থানার ভাইডাঙ্গা গ্রামের মো. শাহিন (১৯)। শোয়াইব হোসেন আল-মাদ্রাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুরের পরিচালক। হাবিবুর রহমান ও শাহিন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক। নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী হলো-কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার সিংপুর গ্রামের নাজমুল মিয়ার ছেলে মোঃ বায়েজীদ (১৩) এবং শেরপুরের ঝিনাইগাতী থানার বানিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ লাল মিয়ার ছেলে বোরহান আলী (১৩)। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে গাছা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রব্বানী এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের পশ্চিম ঝাঝড়ের সাক্রাউরী এলাকায় আল-মাদ্রাসাতু দারুত তাকওয়ায় পড়ে বায়েজীদ ও বোরহান। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদ্রাসার মাঠে কয়েকজন শিক্ষার্থী খেলছিল। ওই সময় এক শিক্ষার্থীর পায়জামা অসাবধানতাবশত খুলে যায়। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বায়েজীদকে মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব আহাম্মদ মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে বায়েজীদকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পেটানো হয়। পরে লোহার খুন্তি আগুনে গরম করে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে বায়েজীদ মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফিরলে তার বাবা নাজমুল মিয়া ছেলের হাঁটা ও বসার মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখতে পান। কারণ জানতে চাইলে বায়েজীদ নিতম্বে ফোঁড়া হয়েছে বলে জানায়। পরে সেখানে ওষুধ লাগাতে গেলে সে বাধা দেয়। জোর করে ওষুধ লাগানোর চেষ্টা করলে পোড়া জখমের চিহ্ন দেখতে পান তার বাবা। এর পর জিজ্ঞাসাবাদে বায়েজীদ নির্যাতনের ঘটনা জানায়।
অন্যদিকে, বোরহানের বাবা লাল মিয়ার অভিযোগ, একই ঘটনার জেরে তার ছেলেকেও একটি কক্ষে আটকে নির্যাতন করা হয়। তার মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং পোশাক খুলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মাওলানা শোয়াইব আগুনে উত্তপ্ত লোহার খুন্তি দিয়ে বোরহানের তলপেটে ছ্যাঁকা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও শাহিনও গরম খুন্তি দিয়ে তার উরু, নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
লাল মিয়া অভিযোগ করেন, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ছেলেকে দেখতে মাদ্রাসায় গেলে সংশ্লিষ্টরা তাকে জানান, বোরহানকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে। পরে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলেকে দেখতে পান তিনি। কাজের সুবাদে বায়েজীদের বাবা নাজমুল মিয়া পরিবার নিয়ে পশ্চিম ঝাঝড় এলাকায় এবং বোরহানের বাবা লাল মিয়া সাক্রাউরী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বায়েজীদের পরিবারের করা মামলায় মাওলানা শোয়াইব হোসেনকে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়। শনিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 
অপর দিকে, বোরহানের বাবা মোঃ লাল মিয়ার করা মামলায় শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে পাঠানো হবে।
গাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম রব্বানী বলেন, দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের করা পৃথক মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ