খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বাড়ছে আত্মহত্যা, প্রয়োজন সচেতন উদ্যোগ

|
১১:৫৯ পি.এম | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রতিযোগিতাপূর্ণ যান্ত্রিক সভ্যতায় মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়ার ফুরসত মিলছে না। একজনের শরীর খারাপ হলে তিনি সহজে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, কিন্তু সেই মানুষটিই তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে কুণ্ঠা বোধ করেন।
এমন জটিল সামাজিক কাঠামোর মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। খবরে বলা হয়, বিগত এক বছরে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এমন বাস্তবতার মধ্যেই গতকাল পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্যও অত্যন্ত সময়োপযোগী ‘আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত বয়ান পরিবর্তন’।
প্রকাশিত খবরে যে পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে, তা এককথায় উদ্বেগজনক। পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪-এই পাঁচ বছরে দেশে আত্মহত্যাজনিত অপমৃত্যুর ঘটনায় ৭৬ হাজার ৩৬১ জন মারা গেছে। অর্থাৎ বছরে গড়ে মৃত্যু ১৫ হাজার ২৭২ জনের। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ রেকর্ডে ১২ হাজার ৪৬৭টি আত্মহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে আত্মহত্যার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে সরকারি ও আন্তর্জাতিক তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ ২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই বছর আত্মহত্যায় মারা যায় চার হাজার ৭১৪ জন, যা একই বছর পুলিশের হিসাবের প্রায় তিন গুণ। 
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অন্তত ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩১০।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে একক কোনো কারণ কাজ করে না। মানসিক চাপ, বিষণœতা, পারিবারিক বিরোধ, সম্পর্কের টানাপড়েন, পরীক্ষায় ব্যর্থতা বা ভালো ফল করার চাপ, বুলিং, একাকিত্ব, আর্থিক সংকট, বেকারত্বের আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের চাপসহ একাধিক বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক বলেন, স্কুল ও শিক্ষকদের জীবনদক্ষতা ও সামাজিক-আবেগিক শিক্ষা কর্মসূচি স¤প্রসারিত করতে হবে, যাতে  শিক্ষার্থীরা প্রথম থেকেই চাপ, হতাশা ও দ্ব›দ্ব মোকাবেলা করতে শেখে। 
আমরাও মনে করি, আত্মহত্যা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পারিবারিক পর্যায়েও সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। সমাজে ইতিবাচক সংস্কৃতি চালু হলে ব্যক্তিগত পর্যায়েও হতাশাবোধ অনেকটা কমে আসবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ