খুলনা | সোমবার | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর আহবান আইনমন্ত্রীর

সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে মাদকসেবীদের ডোপ টেস্টের পর সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:২৪ এ.এম | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে মাদকসেবীদের ডোপ টেস্টের পর সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান, এমপি। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
রোববার সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে বিচার বিভাগ, সাতক্ষীরার আয়োজনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি আইনমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত জেলা হিসাবে সাতক্ষীরাকে মাদকমুক্ত করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া যাবে না। মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের ডোপ টেস্টের পর সামারি ট্রায়াল করতে হবে এবং মাদক নির্মূলে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, বিচার প্রার্থীদের দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে হবে। বিচারকদের কর্মঘণ্টাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সাতক্ষীরায় বর্তমানে ৭৬ হাজার ২৮৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে উলে¬খ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একজন বিচারককে আরেকজন বিচারকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে হবে।
সাতক্ষীরার বিচার বিভাগের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, স¤প্রতি জেলায় অতিরিক্ত দায়রা জজের ৬টি, যুগ্ম দায়রা জজের ৮টি, সিনিয়র সিভিল জজের ২টি, সিভিল জজের ৫টি এবং পারিবারিক আদালতের ২টিসহ মোট ২৩টি নতুন আদালত সৃজন করা হয়েছে। অতি দ্রæত এসব আদালতে বিচারক ও সহায়ক স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ফলে বিচারপ্রার্থী মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ আরও সহজ হবে।
বিচার বিভাগের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা উলে¬খ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হবে। সাতক্ষীরায় বিচারক, জনবল ও অবকাঠামোগত সংকট দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। লিগ্যাল এইডকে আরও জনবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী আরো বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করে মামলা জট কমাতে হবে। প্রয়োজনে লিগ্যাল এইড অফিসে জনবল বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হবে। দেশ একটি ক্রান্তিকাল পার করছে উল্লে¬খ করে তিনি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চোখ-কান খোলা রেখে দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরায় বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ১ জন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদে ২ জন, সিনিয়র সিভিল জজ পদে ২ জন, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে ১ জন এবং জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পদে ৫ জনসহ মোট ১১ জন বিচারকের পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে অবিলম্বে বিচারক নিয়োগের জন্য আইনমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান তিনি। বলেন, সাতক্ষীরায় নতুন করে ২৩টি আদালত সৃজন করা হলেও এসব আদালতের জন্য বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করা হয়নি। অতি দ্রুত দায়রা আদালতসমূহে ১৪ জন বিচারক ও ৭২ জন স্টাফ নিয়োগের দাবি জানান তিনি।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালে সাতক্ষীরায় মোট ১২ হাজার ২৮৭টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪ হাজার ২২৭টি, ফৌজদারি মামলা ৪ হাজার ৬৩৭টি, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মামলা ২ হাজার ৬১৭টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ৮০৬টি মামলা রয়েছে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে সাতক্ষীরা লিগ্যাল এইড অফিসে মোট ২ হাজার ১৭৭টি আবেদন জমা পড়েছে। এ সময়ে এডিআরের মাধ্যমে ১ হাজার ৪৬৪টি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ৪৫৫টি সফল মেডিয়েশন হয়েছে।এ সময়ে ১ হাজার ৪৩২ জন নারী ও ৪২৬ জন পুরুষকে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসময় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে (এডিআর) ১ কোটি ৪৫ হাজার টাকা অর্থ আদায় করা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় বিচার বিভাগ, সাতক্ষীরার সকল পর্যায়ের বিচারকগণ উপস্থিত ছিলেন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ