খুলনা | সোমবার | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফের রক্তাক্ত মণিপুর, ‘ব্ল্যাক ডে’তেই জোড়া হামলায় নিহত ৪

খবর প্রতিবেদন |
০২:২৪ পি.এম | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মণিপুরে দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি। এর মধ্যেই ফের রক্তাক্ত হলো উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্য। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তামেংলং জেলার দুটি গ্রামে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র হামলাকারীদের গুলিতে অন্তত চার গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছয় বছরের এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন এক নারীও।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোররাতে তামেংলং জেলার তোলেন গ্রামে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। সশস্ত্র হামলাকারীরা একটি বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে এক যুবক, তার স্ত্রী ও তাদের ছয় বছরের ছেলে গুরুতর আহত হন।

আহত তিনজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দম্পতির মৃত্যু হয়। তাদের ছয় বছরের ছেলে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এর কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরের দিকে লংপি গ্রামে দ্বিতীয় হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গ্রামের রাস্তা দিয়ে তিনজন বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। গুলিতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। তবে সঙ্গে থাকা এক নারী নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ ওই নারীকে হামলাকারীরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরপর দুই হামলার ঘটনায় তামেংলংয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকটি সংগঠন অভিযোগ করেছে, হামলার পেছনে সশস্ত্র নাগা গোষ্ঠীর সদস্যরা থাকতে পারেন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা হামলার প্রকৃত কারণ এখনো সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচন্দ সিং। তিনি নিরীহ মানুষের ওপর এ ধরনের হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকেও হামলার নিন্দা জানিয়ে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হামলার পর তামেংলংয়ের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন।

‘ব্ল্যাক ডে’-র দিনেই হামলা
এ বছরের হামলার সময়টিও বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ১৩ সেপ্টেম্বর কুকি সম্প্রদায়ের কাছে ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৯২ সালে মণিপুরে কুকি-নাগা জাতিগত সংঘাত শুরু হয়। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা ওই সংঘাতে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ১৩ সেপ্টেম্বর দিনটি পালন করেন কুকিরা।

এ কারণে ‘ব্ল্যাক ডে’-র সময় ঘিরে এবারের হামলা কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও আশঙ্কা তৈরি করেছে। কুকি সংগঠনগুলোর একাংশের অভিযোগ, অতীতের সংঘাতের স্মৃতিকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের মধ্যেই নতুন এই সহিংসতা মণিপুর প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পাশাপাশি নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারের চেষ্টা এবং হামলাকারীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে প্রশাসন।

এক শিশু গুলিবিদ্ধ, চারজন নিহত এবং একজন নারী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাই আবারও সামনে এসেছে। 
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

প্রিন্ট

আরও সংবাদ