খুলনা | সোমবার | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

নিজের বিরুদ্ধে নিউজকে ‘শতভাগ ফেক’ বললেন ছাগলকাণ্ডের সেই মতিউর

খবর প্রতিবেদন |
০৫:০৬ পি.এম | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমান নিজের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদকে ‘শতভাগ ফেক’ দাবি করেছেন। এসব সংবাদের পক্ষে প্রমাণ চাওয়া হলে তা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মতিউর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যত নিউজ হয়েছে, শতভাগ ফেক। এই ফেক নিউজের রেজাল্ট কী আসে? প্রমাণ চাইলে শতভাগ প্রমাণ দিতে পারব। আমার আইনজীবীর কাছে সব প্রমাণ আছে।’

এদিকে এ মামলায় সোমবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও তা হয়নি। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন সাক্ষ্য দিতে হাজির হয়েছিলেন।

তবে মতিউরের আইনজীবী মো. বোরহান উদ্দিন সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি রাখার আবেদন করেন। অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এ কারণ দেখিয়ে তিনি সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান।

দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ আলী সালাম এর বিরোধিতা করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে সকালে মতিউর রহমানকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানির সময় এজলাসে তোলা হয় তাকে।

গত ৩ আগস্ট মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এর আগে ৫ জুলাই অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ হয়।

দুদকের মামলায় মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করে দুদক। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে মতিউর রহমান ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

২০২৪ সালের কোরবানির আগে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ১৫ লাখ টাকা দামের একটি ছাগল কেনার ঘটনায় মুশফিকুর রহমান ইফাত নামের এক তরুণের ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই সময় ইফাতের সঙ্গে মতিউর রহমানের পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হলে সামনে আসে মতিউর ও তার পরিবারের সম্পদের নানা তথ্য।

এরপর মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০২৪ সালের ৪ জুন তাদের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অনুসন্ধান শুরু হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৬৫ বিঘা জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়। তাদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব ও শেয়ারবাজারের বিও হিসাবও ক্রোক করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউর রহমানকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তখন থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ