খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা বাজারে নদী ভাঙন আতঙ্ক, প্রতিরোধ না হওয়ায় জনমনে ক্ষোভ

আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি |
১২:১৩ এ.এম | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গায় মরিচ্চাপ নদীর পাড় ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের কবলে পড়ে শত বছরের পুরনো গোয়ালডাঙ্গা বাজারের বড় অংশ নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে। সাথে একটি জামে মসজিদ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং শত শত পরিবারের বসতভিটাও হুমকিতে আছে। 
জানা গেছে, ২০২৩ সালের শুরুতে নদী খনন কাজ শুরু হয়। তখন নদীর মুখ করা হয়েছিল ২০০ ফুট। খননের সময় এলাকাবাসীর প্রতিবাদকে উপেক্ষা করে ব্রীজ ও আদর্শ গ্রাম রক্ষার অজুহাতে বাজারকে সংকুচিত করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে খনন কাজ শেষ হয়। খননের সুফল ভোগ করা গেলেও গোয়ালডাঙ্গা বাজার এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর প্রবল স্রোতে পাড় ধসে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে থাকে। এনিয়ে পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক রিপোর্ট হয়, জেলা প্রশাসক, এমপি, পাউবো কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। ব্যবস্থার ওয়াদা ও অনেক বড় বড় কথা হয়। এক পর্যায়ে অস্থায়ী ভাবে বালুভর্তি বস্তা ফেলা হলেও তেমন কোন কাজে আসেনি। পাইলিং করে বস্তা ফেলার কথা থাকলেও সঠিকভাবে করা হয়নি। পানির স্রোতে বস্তার নিচের মাটি সরে যাওয়ায় বালুর বস্তা ৩ থেকে ৫ হাত নেমে গিয়ে আবারও নতুন ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংস্কার বা প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা না হলে এই অঞ্চলের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী এস এম শরিফুল ইসলাম শরিফ জানান, কিছুদিন ধরে মরিচ্চাপ নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভাঙতে ভাঙতে নদী এখন লোকালয়ের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র গোয়ালডাঙ্গা বাজার, গোয়ালডাঙ্গা জামে মসজিদ, চাঁদনী সেট এলাকা। ইতিমধ্যে প্রতিবন্ধী শহিদুল গাজী ও রফিকুল সরদারের ঘর ভাঙনের মুখে পড়েছে। বেশ কিছু গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন যে গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে আশঙ্কা করা হচ্ছে খুব দ্রুতই বাজার, মসজিদ, অটোমিল, স’মিল ও বসতবাড়ি নদীতে ধসে পড়তে পারে। 
ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শরিফুল ইসলাম শরিফ জানান, নদীর পাড় ভেঙে বড় বড় মাটির স্তুপ ধসে পড়ছে স্রোতের বুকে। আতঙ্কে দিন কাটছে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানের আশঙ্কায় দিন গুনছেন। মসজিদটিতে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা সবসময় অজানা আতঙ্কে থাকেন। 
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের আকুতি বাজারটি আমাদের রুটি-রুজির একমাত্র স্থান এবং মসজিদটি আমাদের আবেগের জায়গা। ঘরবাড়ি হারালে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকবে না। আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব। এখনই যদি জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও স্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাদের দাবি, অবিলম্বে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী বাঁধ সংস্কারের কাজ করা হোক।
উপজেলা জিয়া পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুজ্জামান মুকুল শিকারী জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন এবং দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় নেমে আসবে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে নদী ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন। 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, গোয়ালডাঙ্গা বাজার সংলগ্ন বাঁধ ভাঙন স্থান আমি পরিদর্শন করেছি। এমপিও পরিদর্শন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। বিষয়টি আমি আবারও খোঁজ খবর নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ